হামলায় জড়িত দুই সন্দেহভাজনের একজন ২৪ বছর বয়সী নাভিদ আকরাম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৫ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সৈকতে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত নাভিদ আকরামের নাম জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার অনুষ্ঠিত ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব হনুকাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের সময় এই হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হন। ঘটনাটি অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ব্যস্ত ও পরিচিত পর্যটন এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বড় পরিসরের পুলিশি তদন্ত শুরু হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাতে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি জানায়, সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীর একজন হিসেবে নাভিদ আকরামকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বাসিন্দা এবং পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত।
পুলিশের তথ্যমতে, নাভিদ আকরামের ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে তার ঠিকানা হিসেবে সিডনির বনিরিগ এলাকার নাম উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ ওই এলাকায় আকরামের বাড়িতে অভিযান চালায়। এছাড়া ঘটনাস্থলে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে তাকে হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দেখা গেছে।
পুলিশ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স বলেন, এই হামলার লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়। তিনি বলেন, এই ঘটনায় কঠোর পুলিশি ব্যবস্থা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক ও ভয়াবহ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইহুদি অস্ট্রেলীয়দের ওপর হামলা মানে পুরো অস্ট্রেলিয়ার ওপর হামলা। তিনি আরও বলেন, দেশে ঘৃণা, সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই এবং এসব নির্মূলে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এই নৃশংস ঘটনার মধ্য দিয়েই জাতীয় ঐক্যের একটি শক্ত বার্তা উঠে আসবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে হামলার সময় এক সাহসী সাধারণ মানুষ অস্ত্র ছাড়াই এক বন্দুকধারীকে নিরস্ত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি গাড়ির আড়ালে লুকিয়ে এক বন্দুকধারীর পেছনে গিয়ে তার গলা চেপে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তির পর তিনি বন্দুকটি ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হন। ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ব্যক্তি বন্দুকধারীর দিকে অস্ত্র তাক করে ধরে রাখেন এবং সহায়তার জন্য সংকেত দেন।
ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি চলমান তদন্ত এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে জানানো হবে।
সূত্রঃ রিপাবলিক টিভি ও ফিনান্সিয়্যাল এক্সপ্রেস