চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকার জন্য বীরত্বের স্বীকৃতি পেলেও চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে ঘিরে দায়ের হওয়া হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কারাগারে আছেন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতা। আসন্ন বিজয় দিবসও তাদের অনেককে কাটাতে হচ্ছে কারাগারে। এ পর্যন্ত অন্তত ২৩ জন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের কারাবন্দিত্বের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে সারা দেশে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনসংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনায় একের পর এক মামলা দায়ের হয়। এসব মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহি বীর বিক্রম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুজিববাহিনীর সদস্য শাহজাহান খান, ঢাকা জেলা মুক্তিবাহিনীর সদস্য ড. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, নেত্রকোনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আহমেদ হোসেন, সাবেক মন্ত্রী টিপু মুনশি, নীলফামারী-১ আসনের সাবেক এমপি আফতাব উদ্দিন সরকার, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, ঢাকা-৫ আসনের সাবেক এমপি কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, সাবেক মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক, সাবেক চিফ হুইপ আব্দুস শহীদ, সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন কারাগারে রয়েছেন।
এ ছাড়া মেহেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার ও আমঝুপি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিয়ার রহমান এবং যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা শহিদুল ইসলাম মিলনও কারাবন্দি। এর বাইরে বিভিন্ন জেলায় আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা গ্রেপ্তার হলেও তাদের নাম ও মামলার বিস্তারিত পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গত ৮ ডিসেম্বর জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীসহ ১৭ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে আটজন মুক্তিযোদ্ধা। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, আসামির পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান নয়, অভিযোগের ধরন ও অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় এনে মামলা পরিচালনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, ঢাকায় দায়ের হওয়া বেশ কয়েকটি মামলায় হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননের নাম এসেছে। একটি মামলায় মেননের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। কুষ্টিয়ার একাধিক মামলায় ইনুর নাম রয়েছে এবং কুষ্টিয়া ও ঢাকার দুটি মামলায় তিনি একক আসামি। নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক একটি মামলায় গোলাম দস্তগীর গাজীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যার তদন্ত চলমান।
আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই জুলাই মাসের গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, তারা শুধু সরকারের অংশ ছিলেন এমন নয়, বরং আন্দোলন দমনে সরাসরি ভূমিকা রাখার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কারফিউ জারি, লেথাল অস্ত্র ব্যবহার ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা পরে বাস্তবায়িত হয়।
মামলার ধরন অনুযায়ী, সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে। যদিও তার আইনজীবীরা এসব মামলার অগ্রগতির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রাশেদ খান মেননকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘর্ষে নিহতদের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণও শুরু হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম দস্তগীর গাজীকে রূপগঞ্জে এক শিক্ষার্থী হত্যাসহ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার একাধিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্যান্য সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন জেলায় হত্যা, সহিংসতা, অস্ত্র ব্যবহার ও নাশকতার অভিযোগে মামলা চলছে।
এদিকে একসঙ্গে শত শত আসামির নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়েরের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মানবাধিকার সংগঠন ও আইনজ্ঞদের একটি অংশ। এ প্রসঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান সম্প্রতি এক সেমিনারে বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর কিছু মিথ্যা মামলা হয়েছে এবং সেগুলো ঠেকাতে সরকার আইনি উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি জানান, মিথ্যা মামলা প্রতিরোধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে ১৭৩(ক) ধারা সংযোজন করা হয়েছে, যাতে জেলা পুলিশ সুপার বা মহানগর এলাকায় পুলিশ কমিশনার অভিযোগ যাচাই করে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন আদালতে দিতে পারেন।
সব মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অবদান রাখা বহু পরিচিত মুখ এবছর বিজয় দিবস উদযাপন করছেন কারাগারের ভেতরে। রাজনৈতিক বাস্তবতা, বিচারপ্রক্রিয়া ও ন্যায়বিচার নিয়ে এই পরিস্থিতি নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au