সর্বশেষ

এবছর বিজয় দিবসের আয়োজন কমেছে

  • 12:37 pm - December 16, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২৮ বার
এবছর বিজয় দিবসের আয়োজন কমেছে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৬ ডিসেম্বর- ডিসেম্বর এলেই এক সময় পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে পড়ত বিজয়ের উৎসবের আবহ। ছোট ছোট জাতীয় পতাকায় সাজানো হতো রাস্তা ও বাড়ির বারান্দা। সাউন্ড বক্সে বাজত দেশাত্মবোধক গান। নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা আয়োজন ঘিরে তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে মুখর থাকত এলাকা। তবে গত দুই বছর ধরে বিজয় দিবস ঘিরে সেই পরিচিত দৃশ্য আর চোখে পড়ছে না। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজসহ বড় ধরনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচিও হচ্ছে না।

বিগত বছরগুলোতে ডিসেম্বরজুড়ে রাজধানীর শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন ছিল নানা আয়োজনে ভরপুর। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, টিএসসি, ধানমন্ডি লেকসহ ঢাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী মেলা, নাট্য উৎসব, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান চলত। ১৬ ডিসেম্বর এলেই জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে হতো কুচকাওয়াজ, আর দিনভর রাজধানীর নানা স্থানে চলত সাংস্কৃতিক আয়োজন।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর গত বছর নিরাপত্তাজনিত কারণে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ স্থগিত করা হয়। এ বছরও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। শুধু রাজধানী নয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় কেন্দ্রীয় সমাবেশের পরিবর্তে বিজয় দিবসের চেতনা ও তাৎপর্যকে জনগণের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়াই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য। এই নীতির অংশ হিসেবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।

এই উদ্যোগের আওতায় ৬৪ জেলায় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় সব উপজেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও স্মরণানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন, রচনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিজয় দিবসের আয়োজন এবার সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন, তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের সূচনা এবং সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যেই জাতীয় পর্যায়ের উদযাপন সীমাবদ্ধ থাকছে। আগের মতো রাজধানীতে একাধিক বড় মঞ্চ, ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা কিংবা সপ্তাহ বা মাসব্যাপী কেন্দ্রীয় উৎসবের আয়োজন দেখা যায়নি। তবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার সর্বাধিক পতাকা উড়িয়ে প্যারাসুটিংয়ের মাধ্যমে একটি বিশ্বরেকর্ড গড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেও দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, বিজয় দিবসকে ঢাকাকেন্দ্রিক উৎসবের গণ্ডি থেকে বের করে এনে দেশব্যাপী জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এই নীতির উদ্দেশ্য। পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সহজ করা এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এই পরিবর্তন নিয়ে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ভিন্নমতও রয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগে ঢাকায় বিজয় দিবস উপলক্ষে গড়ে তিন থেকে পাঁচটি বড় কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সমাবেশ হতো। এ বছর তা নেমে এসেছে একটিতে, সেটিও সীমিত পরিসরে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের কার্যক্রমেও। আগে পাড়া-মহল্লায় অনেক আয়োজন সাপ্তাহিক, পাক্ষিক কিংবা মাসব্যাপী হতো। এখন ঢাকার বহু এলাকায় সেসব আয়োজন হচ্ছে না। কোথাও হলেও আয়োজনের পরিসর ও সময় দুটোই কমে গেছে। এতে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনেও এই প্রবণতা স্পষ্ট। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিজয় দিবস উপলক্ষে ছয় থেকে সাতটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হলেও ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে তিনটিতে। বাংলা একাডেমি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেও আয়োজনের সংখ্যা কমেছে, যদিও স্মরণানুষ্ঠান ও আলোচনা সভার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মতে, জাতীয় দিবসের ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় আয়োজন কমে যাওয়ায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার জৌলুস কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নাট্যকর্মী জানান, গত বছর থেকে বিজয় উৎসব যেভাবে দায়সারাভাবে উদযাপিত হচ্ছে, তাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, এই ধারা স্থায়ী রূপ নেবে কি না, নাকি আবার কেন্দ্রীয় জৌলুসে ফিরে যাবে, তা নির্ভর করবে রাষ্ট্রীয় নীতি ও জনআকাঙ্ক্ষার সমন্বয়ের ওপর। এই ধারা অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস থেকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে প্যারেড আয়োজন না করার প্রতিবাদে গণকুচকাওয়াজের ঘোষণা দিয়েছে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য। সোমবার সংগঠনটি জানিয়েছে, রাষ্ট্র যদি পিছিয়ে যায়, তবে জনগণই সামনে এসে বিজয়ের উৎসব উদযাপন করবে।

এ বিষয়ে সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এই শাখার আরও খবর

চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা

মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…

‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au