আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে দাফন করার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নজরুলের পরিবার এ সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এই দাফনকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে নজরুলের সমাধি ও এর মর্যাদা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে কাজী নজরুল ইসলামের দেহ সমাধিস্থ করা হয়। শনিবার বিকেল চারটার দিকে একই সমাধি চত্বরে দাফন করা হয় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। নজরুলের সমাধির আশপাশে যেখানে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রথিতযশা শিক্ষকের কবর রয়েছে, সেখানে হাদিকে সমাধিস্থ করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে জরুরি বৈঠকের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়। শনিবার দুপুরে হাদির মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নেওয়া হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান বলেন, শরিফ ওসমান হাদি ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন এবং দেশের জন্য তার ত্যাগ স্মরণীয় থাকবে।
তবে নজরুলের পরিবার এ বক্তব্যে সন্তুষ্ট নয়। পশ্চিম বর্ধমানের চুরুলিয়ায় কবির জন্মভূমি থেকে পরিবারের সদস্য সোনালি কাজী ও স্বরূপ কাজী বলেন, এই সিদ্ধান্ত অনৈতিক এবং অপ্রয়োজনীয়। তাদের দাবি, নিয়ম অনুযায়ী ওই স্থানে খুব সীমিত সংখ্যক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করা হয়। পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও নজরুলের সমাধির পাশেই হাদিকে দাফন করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
সোনালি কাজী বলেন, নজরুল সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা দিয়ে গেছেন। অথচ সেই কবির সমাধির পাশে এমন একজনকে দাফন করা হয়েছে, যাকে ঘিরে সহিংসতা ও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবিষ্যতে হয়তো কবির সমাধির অস্তিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। পরিবারের ভাষ্য, তারা গভীর মানসিক কষ্ট ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন এবং চান না নজরুলের স্মৃতি ও মর্যাদা কোনোভাবে ক্ষুণ্ন হোক।
এদিকে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও হাদির সমাধিকে কেন্দ্র করে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এই দাফন পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি ভবন, রাজনৈতিক কার্যালয়, সংবাদমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার বাংলাদেশে এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোকও পালন করা হয়।
নজরুলের সমাধির পাশে হাদির দাফন সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি করেছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au