আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- ছয় বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতের বিজেপি সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ পাস করার সময় একে প্রতিবেশী দেশগুলোতে নিপীড়িত সংখ্যালঘুদের রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরেছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল এই আইনের রাজনৈতিক প্রচারের কেন্দ্রে। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বাড়লেও এই আইন তাদের কোনো কার্যকর সহায়তা দিতে পারছে না।
সেই সময় সিএএ ছিল ভারতের নাগরিকত্ব ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন। এই আইনের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ধর্মকে নাগরিকত্ব প্রদানের শর্ত হিসেবে যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা নির্দিষ্ট ধর্মাবলম্বী অভিবাসীরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করলেও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন, এমন সুযোগ রাখা হয় এতে। যদিও ওই সময় আইনটি ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও আন্দোলন হয়।
আইনটির রাজনৈতিক ভিত্তির বড় অংশ তৈরি হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গকে ঘিরে। বাংলাদেশ থেকে দীর্ঘদিন ধরে ভারতে চলে আসা লাখো হিন্দুর কাছে বিজেপি নিজেকে রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করে। দলটি তখন যুক্তি দিয়েছিল, বাংলাদেশের হিন্দুরা দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনীতির চাপে নিপীড়নের শিকার এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো ভারতের নৈতিক দায়িত্ব।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। গত এক বছরে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হয়। সম্প্রতি ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সিএএ প্রয়োগের দাবি উঠলেও আইনটি আসলে এমন সংকটের জন্য তৈরি হয়নি। জনসংখ্যাবিদ যশবন্ত দেশমুখ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, দীপু দাসের পরিবারের মতো অসহায় মানুষদেরই সিএএর সুরক্ষা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আইনের কাঠামোই তাদের সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।
সিএএর সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর কাট-অফ তারিখ। আইনে স্পষ্টভাবে বলা আছে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪-এর আগে যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন, কেবল তারাই এই আইনের আওতায় পড়বেন। অর্থাৎ আইনটি পাস হওয়ার পাঁচ বছর আগেই একটি সীমারেখা টেনে দেওয়া হয়।
এর মানে হলো, যারা এখনও বাংলাদেশে রয়েছেন এবং বর্তমানে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন, তাদের জন্য সিএএ কোনো পথ খুলে দেয় না। ২০১৯ সালে সংসদীয় যৌথ কমিটিতে মোদি সরকার জানিয়েছিল, এটি হবে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ হিন্দু অভিবাসীদের জন্য এককালীন সাধারণ ক্ষমা। ভবিষ্যতে নতুন করে বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের প্রবেশ ঠেকাতেই এই কাট-অফ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ভারত সরকার কূটনৈতিকভাবে ঢাকাকে কড়া বার্তা দিলেও সিএএর কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের হিন্দুদের দুর্দশার খবর গুরুত্ব পেলেও আইনটি বাস্তবে তাদের আশ্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে না। ফলে আসাম বা পশ্চিমবঙ্গের মতো সীমান্ত রাজ্যে আশ্রয় দেওয়ার দাবি খুব একটা জোরালো হচ্ছে না।
ছয় বছর পার হলেও সিএএর আওতায় কতজন মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন, সে বিষয়ে ভারত সরকার কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। ধারণা করা হয়, এই সংখ্যা খুবই কম। বিশ্লেষকদের মতে, আইনটির প্রকৃত শক্তি মানবিক সহায়তার চেয়ে রাজনৈতিক ব্যবহারে বেশি।
সিএএ এবং প্রস্তাবিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকে একসঙ্গে ব্যবহার করে বিজেপি অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সুবিধা আদায় করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার এই দুটি ইস্যুকে সামনে এনে মুসলমানদের নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছেন। সিএএ বিরোধী আন্দোলন ও তার প্রতিক্রিয়াও বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিকে আরও দৃঢ় করেছে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যাদের রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সিএএ রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা হয়েছিল, বাস্তবে সেই বাংলাদেশের হিন্দুরাই এই আইনের বাইরে থেকে যাচ্ছেন। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও রাজনৈতিক সুবিধার কারণে কাট-অফ তুলে আইনটিকে কার্যকর করার বিষয়ে মোদি সরকার তেমন কোনো চাপের মুখে নেই। ফলে সংকটে পড়া মানুষের জন্য সিএএ আজও মূলত একটি অকার্যকর আইন হিসেবেই রয়ে গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au