আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২২ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু দাসের বিচারবহির্ভূত নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনোরিটিজ ইন বাংলাদেশ (AFERMB)। সংগঠনটি বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড মানবাধিকার, আইনের শাসন এবং মানবিক মর্যাদার চরম লঙ্ঘন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
শনিবার, ২১ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে AFERMB জানায়, ২৫ বছর বয়সী হিন্দু ধর্মাবলম্বী কারখানা শ্রমিক দীপু দাস সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ধর্ম অবমাননার অভিযোগের শিকার হন। ওই অভিযোগের জেরে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় এক উগ্রবাদী জনতার সহিংস হামলার মুখে পড়েন তিনি।
সংগঠনটির দাবি, দীপু দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয় এবং পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে অকল্পনীয় পৈশাচিক উন্মত্ততায় আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। AFERMB বলেছে, কোনো ধর্মই এ ধরনের সহিংসতা সমর্থন করে না। ধর্মের নামে ঘৃণা ও সহিংসতা উসকে দেওয়া ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ড সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ হুমকি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ধর্মীয় সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই দীপু দাস খুব সহজেই জনতার সহিংসতার শিকার হন এবং সম্পূর্ণ অসহায় অবস্থায় প্রাণ হারান। তার এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক, অনিরাপত্তা ও অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আহমদিয়া মুসলিম, আদিবাসী জনগোষ্ঠীসহ অন্যান্য প্রান্তিক সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান ভয় ও অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
AFERMB উল্লেখ করেছে, স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা প্রায়শই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় এসব নিপীড়ন আরও তীব্র আকার ধারণ করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন, বাস্তুচ্যুতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বৈষম্যের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।
এই প্রেক্ষাপটে AFERMB আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, মানবাধিকারের প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে AFERMB। সংগঠনটির ভাষ্য, দীপু দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন ও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের শৈথিল্য ও উদাসীনতা অত্যন্ত হতাশাজনক। এ ঘটনায় সংগঠনটি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা, জড়িত সকল অপরাধীকে দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা, নিহতের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা আর ঘটতে না দেওয়ার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
AFERMB আরও বলেছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে কেবল গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সাংবিধানিক সরকারই জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au