‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৪ ডিসেম্বর- ময়মনসিংহের ভালুকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিহত দিপু দাসের বাবা রবি চন্দ্র দাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলছেন, “আপনি যদি থাকতেন মা, তাহলে আমার ছেলেটা মরতো না। আমার ছেলেটা আজ আমার কোলে ফিরে আসতো। এখন আমাদের হিন্দুদের ওপর খুব অত্যাচার হচ্ছে।”
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে এই কথোপকথন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ভিডিওতে শেখ হাসিনাকেও আবেগাপ্লুত হয়ে কথা বলতে শোনা যায়।
তিনি বলেন, “আপনাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা আমার নেই। আমিও একদিনে বাবা-মা আর ভাইকে হারিয়েছি। এবার তো আমাকে আর আমার ছোট বোন রেহানাকেও মারার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমরা পাঁচ মিনিটের জন্য বেঁচে গেছি। বেঁচে যখন আছি, এর বিচার অবশ্যই হবে, এটুকু বলতে পারি।”
শেখ হাসিনা আরও বলেন, “সময়টা খুব খারাপ যাচ্ছে। এখানে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, মনোনয়ন নিয়ে গোলমাল আছে। একটা মানুষকে মেরে কে লাভবান হয়, সেটা মানুষ আগে দেখে। দীপুকে যেভাবে বিভৎসভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটা কোনো মানবিক কাজ নয়। এটা জঘন্য অপরাধ, এর শাস্তি হতেই হবে।”
এ সময় দিপু দাসের বাবা শেখ হাসিনার কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমরা সনাতন ধর্মের মানুষ। আমাদের দিকে একটু খেয়াল রাখবেন।” উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যা লাগে আমরা করবো। আপনি চিন্তা করবেন না।’
ধর্ম অবমাননার কথিত অভিযোগে ‘তৌহিদী জনতা’ পরিচয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে ময়মনসিংহের ভালুকার ডুবালিয়াপাড়া এলাকায় দিপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে নগ্ন করে হত্যার পর তার লাশ পুড়িয়ে দেয়।
নিহত দিপু দাস একজন পোশাক শ্রমিক ছিলেন। তার বাড়ি ময়মনসিংহের তাড়াকান্দা উপজেলায়। বাবার নাম রবি চন্দ্র দাস। সেদিন তাকে হত্যার পর বিক্ষুব্ধ জনতা তার মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে ঘটনার পর র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) জানায়, তদন্তে দীপু দাসের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au