আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন ২৫ ডিসেম্বর: ঢাকার বাতাসে তখন আগুন আর ধোঁয়ার গন্ধ। শুক্রবারের সংখ্যার জন্য ডেইলি স্টার–এ নিজের প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েই বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাংবাদিক জাইমা ইসলাম। কিন্তু দরজায় পৌঁছানোর আগেই তিনি বুঝে যান-মব এসে গেছে। ইতোমধ্যে দেশের আরেক শীর্ষ দৈনিক প্রথম আলো–র কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার নিশানা তাদেরও।
১৮ ডিসেম্বরের সেই রাতে ঢাকার রাজপথে জড়ো হওয়া জনতা ক্ষোভে ফুঁসছিল। তাদের রাগের কেন্দ্রে ছিল শরীফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ড। হাদী ছিলেন সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক মুখ, যিনি ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটানো আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সরকার বলছে, তাঁর হত্যাকারীরা হাসিনার অনুগত ছিল এবং তারা ভারতে পালিয়ে গেছে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভারতবিরোধী ও সরকারবিরোধী ক্ষোভ মিলেমিশে রূপ নেয় অন্ধ উন্মাদনায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনার আমলে যেসব সংবাদপত্র নিপীড়নের শিকার হয়েছিল, তাদের মধ্যে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার–ই এবার আগুনে পুড়ে গেল। সেদিন শুধু দুটি পত্রিকা নয়, কয়েকটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানও ভস্মীভূত হয়। এতে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কারণ হাসিনার পতনের মাত্র ১৫ মাস পরেই যে “নতুন বাংলাদেশ”-এর স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, তা যেন ভেঙে পড়ছে।

প্রতিবেদনে ডেইলি স্টারের ৩৫ বছর বয়সী রিপোর্টার জাইমা ইসলাম ও তার ২৮ জন সহকর্মী সেই রাতে ছাদে আশ্রয় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তারা জানতেন, এই জনতা শুধু ভাঙচুরে থামবে না, আগুন দেবে। ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসছিল। তিনি ফেসবুকে শেষবারের মতো লিখেছিলেন,
“আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছো।”
ফায়ার সার্ভিস যখন মই দিয়ে নামানোর চেষ্টা করে, তখন তাদের ওপরও হামলা হয়। ভোর চারটার দিকে সেনাবাহিনী এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম লিখেছিলেন, তিনি “সঠিক জায়গায় অসংখ্য ফোন” করেছিলেন, কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। পরে তিনি লেখেন, “লজ্জায় আমি মাটিতে মিশে যেতে চাই।”
প্রথম আলো–র এক সাংবাদিক বলেন, ১৩ তলা ভবন থেকে নিচে জনতার ভিড় দেখে তার মনে হয়েছিল, আগস্ট ২০২৪–এর সেই আশার বাংলাদেশ কত দূরে সরে গেছে।
হাসিনার আমলে বিরোধী দল ও মিডিয়া দমন হয়েছিল, কিন্তু তাঁর পতনের পর তরুণ নেতারা “বাংলাদেশ ২.০”–এর স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন-প্রতিহিংসা ও সহিংসতা ছাড়িয়ে নতুন রাজনীতি। এখন সেই স্বপ্ন ঝাপসা।
“আমি আন্দোলনে নেমেছিলাম কারণ আমরা ১৫ বছর অন্ধকারে ছিলাম। কিন্তু এই সহিংসতা দেখে মনে হলো, আমরা কি আরও গভীরে পড়ছি?”-বলছেন সেই সাংবাদিক।
ব্যবসা ভিত্তিক দৈনিক বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড–এর রিপোর্টার জিয়া চৌধুরী বলেন, এখন সব সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকর্মী নিজেদের অনিরাপদ মনে করছেন।“অন্তর্বর্তী সরকার আসার পর আশা ছিল। কিন্তু সেই আশা ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে।”
জাইমা ইসলাম বলেন, তিনি চান না নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালাক। কিন্তু সাংবাদিকদের রক্ষা করতে আরও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। ২০২৪–এর আন্দোলনে ১,৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর প্রতিহিংসার এক চক্রে দেশ আটকে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
তবু তিনি এখনো পুরোপুরি হতাশ নন।
“আমাদের এখনো একটু আশা আছে। এখনই আতঙ্কে ডুবে যাওয়ার সময় হয়নি,” তিনি বলেন।
তার শর্ত একটাই-আইন যেন প্রতিশোধ নয়, ন্যায়ের পথে চলে।
“অপরাধীকে গ্রেপ্তার করুন, কিন্তু নির্বিচারে নয়। নইলে আমরা এই সহিংসতার চক্র থেকেই বেরোতে পারব না।”
লেখক: কামিল আহমেদ, দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au