শরীয়তপুরের কলেজের কনসার্টে শেখ হাসিনা ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান
শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সরকারি শামসুর রহমান কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার…
মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নতুন করে আলোচনা শুরুর প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বিপরীত অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। একদিকে ওয়াশিংটন শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখালেও অন্যদিকে তেহরান সেই শর্ত সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন মিশনের কাউন্সেলর মরগান অর্টাগাস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য তেহরানকে সরাসরি ও অর্থবহ সংলাপে অংশ নিতে হবে এবং ইরানের অভ্যন্তরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।
মার্কিন এই অবস্থানের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানান জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি। তিনি বলেন, ইরান কোনো চাপ, হুমকি বা ভয়ভীতির কাছে মাথা নত করবে না। তার ভাষায়, ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ নীতি পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবে ইরানের আইনগত অধিকার ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
ইরাভানি আরও বলেন, বর্তমান সংকটের মূল কারণ ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফাভাবে ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি বা যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা (জেসিপিওএ) থেকে সরে যাওয়া। সেই সিদ্ধান্তই আস্থার সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলার অভিযোগও তোলেন।
এদিকে ২০১৫ সালের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২২৩১-এর ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া নিয়েও পরিষদের সদস্যদের মধ্যে গভীর বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এই রেজুলেশনের আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর ১০ বছরের নজরদারি ও বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
ইরানের দাবি, গত ১৮ অক্টোবর সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সব নিষেধাজ্ঞাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। তবে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি ইরানের অননুগত্যের অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহালের চেষ্টা করছে, যা তেহরান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই ইস্যুতে ইরানের অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছে চীন ও রাশিয়া। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়া কার্যকর করার নৈতিক ও আইনগত অধিকার আর কারও নেই।
সব মিলিয়ে, পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অনড় অবস্থান নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও শর্ত ও আস্থার প্রশ্নে দূরত্ব কাটছে না, যা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au