নিহত রাশেদ খান মেনন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বরিশাল নগরীতে গ্রেপ্তার এড়াতে পালানোর সময় রাশেদ খান মেনন (৫০) নামে আওয়ামী লীগের এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রোববার দুপুরে নগরীর পশ্চিম কাউনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, রাশেদ খান মেনন একাধিক রাজনৈতিক মামলার আসামি ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে রোববার দুপুরে কাউনিয়া থানা পুলিশের একটি দল তাঁর বাসায় যায়। তবে পুলিশের উপস্থিতির খবর পেয়ে তিনি বাসা থেকে বের হয়ে আত্মগোপনের চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ আসছে এমন খবর পেয়ে রাশেদ খান মেনন প্রথমে নিজের ভবনের ছাদে ওঠেন। পরে পাশের একটি ভবনের ছাদে লাফ দিয়ে যান। সেখান থেকে নিচে নেমে বাড়ির দেয়াল টপকে পাশের একটি কবরস্থানের ভেতর দিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় একটি কাঁচা সড়কে দৌড়ানোর সময় তিনি পা পিছলে পড়ে যান।
স্থানীয়রা জানান, পড়ে যাওয়ার সময় তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তিনি আগে থেকেই হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন বলেও এলাকাবাসীর দাবি।
নিহতের বড় ছেলে সাহেল জানান, ঘটনার সময় তিনি বাসার বাইরে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখেন, তাঁর বাবাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাউনিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সনজিত নাথ বলেন, রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে পুলিশ তাঁর বাসায় গিয়েছিল। তবে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ জানতে পারে, তিনি মারা গেছেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, রাশেদ খান মেনন সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।