রোনালদোর জোড়া গোলে উড়ল পর্তুগাল। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- বিশ্বকাপে সমালোচনার মুখে থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জবাব দিলেন মাঠেই। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে শুধু পর্তুগালকে বড় জয়ই এনে দেননি, গড়েছেন একাধিক রেকর্ডও। তাঁর অনবদ্য নৈপুণ্যে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে হারিয়ে ‘কে’ গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করেছে পর্তুগাল।
কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে না পারায় রোনালদোকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছিল। পর্তুগালের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড দেখিয়ে দিলেন, বয়স বাড়লেও তাঁর গোল করার ক্ষমতা কিংবা প্রভাব এখনো ফুরিয়ে যায়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে পর্তুগাল। ষষ্ঠ মিনিটেই এগিয়ে যায় দলটি। দ্রুতগতির আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন রোনালদো। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডে সাবেক কিংবদন্তি ইউসেবিওর পাশে নাম লেখান। এতদিন বিশ্বকাপে ৯ গোল নিয়ে এককভাবে শীর্ষে ছিলেন ইউসেবিও।
এরপর ১৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। একটি ফ্রি-কিকের সময় সবাই যখন রোনালদোর শটের অপেক্ষায়, তখন কৌশল বদলে বল ছেড়ে দেন তিনি। সুযোগ কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন নুনো মেন্দেস। গোলের পর রোনালদোর উদযাপনও ছিল ব্যতিক্রমী। মাথায় আঙুল ঠেকিয়ে তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিকল্পনাটি তাঁরই ছিল।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও গোলের দেখা পান রোনালদো। ৩৯ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে যান এই তারকা ফুটবলার।
এই ম্যাচে আরেকটি অনন্য রেকর্ডও গড়েছেন রোনালদো। টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করা বিশ্বের প্রথম ফুটবলার তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে কোনো খেলোয়াড় এমন কীর্তি গড়তে পারেননি। ছয়টি বিশ্বকাপ খেললেও লিওনেল মেসি গোল করেছেন পাঁচটি আসরে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আধিপত্য ধরে রাখে পর্তুগাল। ৬০ মিনিটে উজবেকিস্তানের ডিফেন্ডার নেমাতভের আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ম্যাচের শেষদিকে ৮৭ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও গোল করে পর্তুগালের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচে বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্ট আধিপত্য ছিল পর্তুগালের। দলটি ৬৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মোট ৬২৪টি পাস সম্পন্ন করে। প্রতিপক্ষের গোলমুখে ১৭টি শট নেয় তারা। এর মধ্যে সাতটি শট ছিল রোনালদোর, যার দুটি জালে জড়ায়।
ম্যাচে হ্যাটট্রিকের সুযোগও পেয়েছিলেন রোনালদো। তবে কয়েকবার উজবেক গোলরক্ষকের সেভ এবং রক্ষণভাগের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। তবু জোড়া গোল ও রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত নাম ছিলেন তিনিই।
এই জয়ে ‘কে’ গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে পর্তুগাল। প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা। এক জয় ও এক ড্রয়ে কলম্বিয়ার সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। অন্যদিকে দুই ম্যাচ হেরে এখনো পয়েন্টের দেখা পায়নি উজবেকিস্তান।
গ্রুপ পর্বে পর্তুগালের শেষ ম্যাচ আগামী ২৮ জুন কলম্বিয়ার বিপক্ষে। সেই ম্যাচে জয় বা ড্র করলেই নকআউট পর্বে জায়গা নিশ্চিত হবে রোনালদোদের। তবে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর নতুন উদ্দীপনায় পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছে পর্তুগিজ শিবির।