মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির পূর্ব উপকূলের কাছে একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে দীর্ঘপাল্লার ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ তত্ত্বাবধান করেছেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানায়।
কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চ-উচ্চতার নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কার্যকারিতা ও কৌশলগত সক্ষমতা মূল্যায়নের লক্ষ্যে এই পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
একই সঙ্গে কিম জং উন একটি পৃথক স্থানে নির্মাণাধীন প্রায় ৮ হাজার ৭০০ টন ওজনের পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সাবমেরিনটি ভূমি থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে সক্ষম হবে। তবে কিমের এই সফরের সুনির্দিষ্ট স্থান ও সময় জানানো হয়নি।
কেসিএনএ জানায়, পারমাণবিক সাবমেরিন প্রকল্পটি শাসক দলের নৌবাহিনী আধুনিকায়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ। প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে গৃহীত পাঁচটি কৌশলগত নীতির মধ্যে নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কিম জং উনের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ নয়, তাই পারমাণবিক সক্ষমতার সর্বাত্মক উন্নয়ন এবং নৌবাহিনী আধুনিকীকরণ অপরিহার্য ও অনিবার্য। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিন উন্নয়নের পরিকল্পনা কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করবে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে কেসিএনএ জানায়, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ১৮ ডিসেম্বর কিম জং উনের কাছে নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, ২০২৫ সাল মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বছর হতে যাচ্ছে।
সূত্র : রয়টার্স