আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
মেলবোর্ন, ২৪ জুন– মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের…
মেলবোর্ন, ২৫ ডিসেম্বর- প্রথম পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন বলে দাবি করে একটি বিশাল সাবমেরিনের ছবি প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলোতে দেখা যায়, একটি ইনডোর নির্মাণকেন্দ্রে রাখা সাবমেরিনটি পরিদর্শন করছেন দেশটির নেতা কিম জং উন।
প্রকাশিত ছবিতে সাবমেরিনটির আকার যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর কয়েকটি অ্যাটাক সাবমেরিনের সমতুল্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গাইডেড-মিসাইল সাবমেরিনটি এখনো পানিতে নামানো হয়নি বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) জানিয়েছে, সাবমেরিনটির ডিসপ্লেসমেন্ট প্রায় ৮ হাজার ৭০০ টন, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া শ্রেণির অধিকাংশ পারমাণবিকচালিত সাবমেরিনের কাছাকাছি।
পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন নির্মাণ দীর্ঘদিন ধরেই কিম জং উনের ঘোষিত লক্ষ্য। ২০২১ সালে ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে প্রথমবারের মতো তিনি এই প্রকল্পের কথা প্রকাশ্যে আনেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজস্ব পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার পর পিয়ংইয়ংয়ের এই কর্মসূচিতে নতুন গতি এসেছে।
পারমাণবিকচালিত সাবমেরিনের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে কিম জং উন বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা নীতি সর্বশক্তিশালী আক্রমণাত্মক সক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তার ভাষায়, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য শক্তিশালী আক্রমণাত্মক সক্ষমতা অপরিহার্য। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে, যা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারমাণবিকচালিত সাবমেরিনের বড় সুবিধা হলো দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করার সক্ষমতা। এসব সাবমেরিনকে প্রচলিত ডিজেলচালিত সাবমেরিনের মতো বারবার ভেসে উঠতে হয় না এবং এগুলো তুলনামূলকভাবে দ্রুতগামী ও নীরব। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ভারত এই প্রযুক্তির অধিকারী।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইহওয়া উইমেন্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক লেইফ-এরিক ইজলি মনে করেন, কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য মূলত উত্তর কোরিয়াই দায়ী। তার মতে, পারমাণবিকচালিত সাবমেরিনের সংখ্যা বাড়লে সামরিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে এবং এই অস্ত্র প্রতিযোগিতার দায় এড়ানো সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়া সামরিক শক্তি বাড়ানোর নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক প্রযুক্তি এবং নৌবাহিনীর জন্য নতুন গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন নির্মাণ। কিম জং উনের মতে, ডেস্ট্রয়ার ও পারমাণবিক সাবমেরিন যুক্ত হওয়া নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা জোরদারে একটি বড় অগ্রগতি।
সূত্র: সিএনএন
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au