‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে হিন্দু যুবক আটক, বাড়িতে হামলা-মন্দিরে ভাঙচুর
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার হামলায় বাড়ি, দোকান ও একটি…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর- ক্রিসমাস উপলক্ষে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘিরে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি। বড়দিনের আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই বার্তায় তিনি বলেন, রাশিয়া যত কষ্টই চাপিয়ে দিক না কেন, তারা ইউক্রেনীয়দের হৃদয়, পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐক্য দখল করতে পারবে না।
পুতিনের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করলেও জেলেনস্কির বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা সবাই একটি স্বপ্ন ভাগ করে নিচ্ছি। আর আমাদের সবার একটিই কামনা-সে ধ্বংস হোক; যেমনটা সবাই মনে মনে বলে।’ অনেকেই এটিকে পুতিনের পতন বা মৃত্যুর দিকেই ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন বড়দিনের আগের দিনই ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হন এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি রুশ হামলার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘ক্রিসমাসের প্রাক্কালে রুশরা আবারও দেখিয়েছে তারা আসলে কারা। ব্যাপক গোলাবর্ষণ, শত শত শাহেদ ড্রোন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, কিনঝাল হামলা—সবকিছুই ব্যবহার করা হয়েছে। এটাই ঈশ্বরহীন আঘাত।’
তবে যুদ্ধের ভয়াবহতার মধ্যেও শান্তির আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তখন অবশ্যই আরও বড় কিছুর জন্য চাই। আমরা ইউক্রেনের জন্য শান্তি চাই। আমরা এর জন্য লড়ছি, প্রার্থনা করছি এবং আমরা এটি পাওয়ার যোগ্য।’
একই দিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার কথাও জানান জেলেনস্কি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বার্থে ইউক্রেন পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে পারে, তবে শর্ত হলো রাশিয়াকেও একইভাবে সেনা সরাতে হবে। ওই অঞ্চলগুলো আন্তর্জাতিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে নিরস্ত্রীকৃত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, দনবাস অঞ্চল নিয়ে এটিই এখন পর্যন্ত জেলেনস্কির সবচেয়ে স্পষ্ট সমঝোতার ইঙ্গিত। তিনি জানান, একই ধরনের ব্যবস্থা রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশের এলাকাতেও প্রযোজ্য হতে পারে। তবে যেকোনো শান্তি চুক্তি গণভোটের মাধ্যমে জনগণের অনুমোদন নিতে হবে বলে জোর দেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট।
এদিকে রাশিয়া এখনো দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। বর্তমানে লুহানস্ক অঞ্চলের অধিকাংশ এবং দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যুদ্ধের এই বাস্তবতায় জেলেনস্কির ক্রিসমাস বার্তা যেমন কঠোর ভাষার প্রতিফলন, তেমনি শান্তির দরজাও খোলা রাখার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au