মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর- কুড়িগ্রামের রৌমারীতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের তোলা মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরে বিষপান করেছেন আপন ভাই ও বোন। এতে বোনের মৃত্যু হয়েছে, আর গুরুতর অবস্থায় ভাইকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের চর গয়টাপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত তরুণীর নাম তামান্না আক্তার তুলি (২৫)। তার বড় ভাই আনারুল ইসলাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তারা সায়দার হোসেনের সন্তান।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ঝগড়ারচর গ্রামের আইনাল মাস্টারের ছেলে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে তুলির বিয়ে হয়। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাদের সংসার স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। আর্থিক সংকটের কারণে পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ঢাকায় একটি টেক্সটাইল কারখানায় কাজ শুরু করেন।
কিছুদিন পর দাম্পত্য কলহের জেরে তামান্না গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসেন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। এরই মধ্যে তামান্নার স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে তুলির বড় ভাইয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয় বলে পরিবারের দাবি।
এই অভিযোগে সামাজিকভাবে চরম অপমান ও মানসিক চাপে পড়ে বৃহস্পতিবার সকালে গোপনে ভাই-বোন একসঙ্গে বিষপান করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তামান্না আক্তারের মৃত্যু হয়। আনারুল ইসলামের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের বড় বোন শাহিনা আক্তার বলেন, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার ভাই ও বোনের নামে যে অপবাদ দিয়েছে, সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তারা বিষপান করেছে। এর বাইরে আর কিছু বলার নেই।
তবে নিহতের শ্বশুর আইনাল মাস্টার দাবি করেন, বিষপানের খবর শুনেছেন, কিন্তু কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। তিনি আরও বলেন, ভাইয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় তার পুত্রবধূ দুই মাস আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে আসেন এবং এরপর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না।
এদিকে তামান্নার পালিত বাবা মজারত হোসেন বলেন, মেয়ের সঙ্গে জামাইয়ের কী সমস্যা হয়েছিল, তা তিনি জানেন না। দীর্ঘদিন যোগাযোগ না থাকলেও বিষপানে মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েছেন।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী জানান, নিহতের মরদেহ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক অপবাদ আর পারিবারিক দ্বন্দ্ব কীভাবে একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে, এই ঘটনা তারই করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।