‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে হিন্দু যুবক আটক, বাড়িতে হামলা-মন্দিরে ভাঙচুর
মেলবোর্ন, ২৪ জুন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক হিন্দু যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার হামলায় বাড়ি, দোকান ও একটি…
মেলবোর্ন, ২৬ ডিসেম্বর-ভারতের মুম্বাইয়ে শ্লীলতাহানির সাজানো নাটক করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১০ কোটি রুপি আদায়ের চেষ্টার অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুম্বাই পুলিশের চাঁদাবাজি প্রতিরোধ শাখা ফাঁদ পেতে ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে তাদের আটক করে।
গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন হেমলতা আদিত্য পাটকর (৩৯) ও আমরিনা ইকবাল জাভেরি (৩৩)। এ ঘটনায় আরেক সহযোগী উৎকর্ষ নামে এক ব্যক্তি জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। তিনি বর্তমানে পলাতক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী অরবিন্দ গোয়েল মুম্বাইয়ের গোরেগাঁও পশ্চিম এলাকার একজন ব্যবসায়ী। গত ৫ নভেম্বর তাঁর ছেলে রীতমের বাগ্দান সম্পন্ন হয়। উপলক্ষ্যে ১৪ নভেম্বর রাতে আম্বোলি এলাকার একটি হোটেলে পার্টির আয়োজন করা হয়।
১৫ নভেম্বর গভীর রাতে অনুষ্ঠান শেষে রীতম, তাঁর বাগ্দত্তা ও বন্ধুরা লিফটে করে নিচে নামছিলেন। এ সময় এক অপরিচিত নারী লিফটে ওঠেন এবং অভিযোগ করেন, রীতম তাঁর দিকে লেজার লাইট ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। লিফট নিচে নামতেই ওই নারী চিৎকার শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরবর্তীতে আম্বোলি থানায় রীতমের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা করা হয়। এরপরই শুরু হয় চাঁদাবাজির চাপ। অভিযোগ অনুযায়ী, হেমলতা পাটকর ও আমরিনা জাভেরি মামলা তুলে নেওয়ার এবং আদালতের বাইরে মীমাংসার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসায়ী অরবিন্দ গোয়েলের কাছে ১০ কোটি রুপি দাবি করেন।
২০ ডিসেম্বর আন্ধেরির একটি ক্যাফেতে ডেকে এনে ব্যবসায়ীকে হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না দিলে তাঁর ছেলেকে সারা জীবন জেলে থাকতে হবে এবং পরিবারের সম্মান ধুলায় মিশে যাবে বলে ভয় দেখানো হয়। দর–কষাকষির একপর্যায়ে দাবিকৃত অর্থ কমিয়ে সাড়ে পাঁচ কোটি রুপিতে নামিয়ে আনা হয়।
চাপের মুখে পড়ে ব্যবসায়ী মুম্বাই পুলিশের চাঁদাবাজি প্রতিরোধ শাখার দ্বারস্থ হন। এরপর পুলিশ একটি ফাঁদ পাতে। লোয়ার পারেল এলাকায় আসামিদের ডেকে দেড় কোটি রুপি দেওয়ার ভান করা হয়, যার মধ্যে কিছু নকল নোটও ছিল।
টাকা গ্রহণের মুহূর্তেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই নারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক উৎকর্ষকে ধরতে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই চক্রের সম্পূর্ণ পরিধি স্পষ্ট হবে না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au