মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, ঘটনাটি দুঃখজনক হলেও এটি কোনো সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়। সরকারের দাবি, নিহত ব্যক্তি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারান।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর ২০২৫) রাতে উত্তেজিত জনতার হাতে নিহত হন অমৃত মণ্ডল, যিনি সম্রাট নামেও পরিচিত। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হত্যাকাণ্ডের কঠোর নিন্দা জানায়। তবে একই সঙ্গে বলা হয়, একটি নির্দিষ্ট মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশের তথ্য ও প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, এটি কোনো ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে সৃষ্ট ঘটনা নয়। বরং এটি চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘিরে সৃষ্ট সহিংস পরিস্থিতির ফল। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, নিহত অমৃত মণ্ডল ওরফে সম্রাট একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তিনি চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় প্রবেশ করেছিলেন এবং একপর্যায়ে উত্তেজিত স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, নিহতের সহযোগী সালিমকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি পাইপগানসহ গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পর দেশ-বিদেশে প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, নিহতের ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক হামলা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী প্রশাসন।
ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সরকার বলেছে, প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।