খুলনায় একের পর এক হত্যাকাণ্ড, সন্ধ্যার পর বের হচ্ছে না মানুষ
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : খুলনায় খুন, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদক কারবারের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান, বিপুলসংখ্যক মামলা ও গ্রেপ্তারের পরও থামছে…
ওটিএন বাংলা, নিউক্যাসেল: পূজার আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। অথচ তখনও নিউক্যাসেলে পৌঁছায়নি দুর্গাপ্রতিমা। পুরোহিত, ঢাক ও পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থাও চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যেই বদলাতে হলো অনুষ্ঠানের স্থান। অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে এমন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েও হাল ছাড়েননি বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির একদল তরুণ।
সেই প্রচেষ্টায় গত ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ইউনিভার্সিটি অব নিউক্যাসেলের ক্যালাহান ক্যাম্পাসের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিল্ডিংয়ে অনুষ্ঠিত হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। পুষ্পাঞ্জলি, ঢাকের বাদ্য, ধুনুচি নাচ ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে আয়োজনস্থল। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ১২০টি নিবন্ধন হয়েছিল। বিভিন্ন দেশের মানুষও এই উদ্যোগে অংশ নেন।
আয়োজকদের দাবি, নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এবং অস্ট্রেলিয়ার কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁদের জানা মতে এটিই প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন।
উৎসবের উদ্যোগ নেন সংগঠনের সভাপতি গজেল কবির। তাঁর পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে কাজে নেমে পড়েন সংগঠনের সদস্যরা। হাতে ছিল তিন সপ্তাহেরও কম সময়। এর মধ্যেই ভেন্যু, প্রতিমা, পুরোহিত, পূজার সামগ্রী, সাজসজ্জা, খাবার, স্বেচ্ছাসেবক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, শুরুতে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কিছু বিষয়ে নিশ্চয়তা মেলেনি। ফলে প্রস্তুতির সময় যত কমে আসছিল, অনিশ্চয়তাও তত বাড়ছিল। তবু নিজেদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে কাজ এগিয়ে নেন তাঁরা।

দেশ ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে শারদীয় উৎসবে একত্র হন নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ছবি: সরবরাহকৃত
সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি ছিল প্রতিমা সংগ্রহ। অনুষ্ঠানের পাঁচ দিন আগেও এর ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আয়োজকেরাই উদ্যোগ নেন। চার–পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রা পেরিয়ে প্রতিমা নিউক্যাসেলে নিয়ে আসেন তাঁরা। প্রতিমা পৌঁছানোর পর আয়োজন সম্পন্ন করার বিষয়ে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়ে। তবে তখনও বাকি ছিল বেশ কিছু জরুরি কাজ।
অনুষ্ঠানের মাত্র চার দিন আগে পুরোহিত, ঢাক ও পূজার সামগ্রীর জন্য সিডনির কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অল্প সময়ের নোটিশেও তাঁরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও ঢাক নিয়ে পুরোহিতসহ নিউক্যাসেলে পৌঁছান তাঁরা। আয়োজকদের মতে, শেষ মুহূর্তের এই সহায়তা পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এরপর আসে ভেন্যু পরিবর্তনের ধাক্কা। প্রথমে নির্ধারিত ব্রেনান কক্ষে অনুষ্ঠান করা সম্ভব না হওয়ায় বিকল্প জায়গা খুঁজতে হয়। নতুন স্থানের সঙ্গে মিলিয়ে সাজসজ্জা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনাও বদলাতে হয়। অনুষ্ঠানের দুদিন আগেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান আয়োজকেরা।
এই চাপ সামলাতে দলের সদস্যরা বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ইশরাক রহমান পরিবহন ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করেন এবং নিজের গাড়ি ব্যবহার করতে দেন। প্রচার থেকে শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জা পর্যন্ত যুক্ত ছিলেন সুবাহ সাইয়েরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষার্থী সেবাস্টিয়ান প্রজেক্টর স্থাপনের দায়িত্ব নেন।
সাংস্কৃতিক পর্বে গিটার পরিবেশন করেন আহমেদ ভাশানি। নতুনভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া দীপ্তেশ দেবনাথ প্রস্তুতির কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। নেপালি সহযোগী রোশানি রাউনিয়ার নিজের যোগাযোগের মাধ্যমে একটি জটিল পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করেন। বাংলাদেশী শিক্ষার্থী আবিদসহ অন্য স্বেচ্ছাসেবক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও সময় ও শ্রম দিয়ে আয়োজনটি সম্পন্ন করতে ভূমিকা রাখেন।
আয়োজকেরা এই সাফল্যের কৃতিত্ব দলের প্রত্যেক সদস্য ও সহযোগীকে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত অল্প সময়ে পূজার আয়োজন সম্ভব হতো না।
ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি প্রবাসে পরিচিত একটি সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করাও ছিল এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। পড়াশোনা ও দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে উৎসবটি শিক্ষার্থীদের একত্র হওয়ার সুযোগ করে দেয়। একই সঙ্গে অন্য দেশের বন্ধুদের সামনে বাংলা গান, পূজার রীতি ও উৎসবের আবহ তুলে ধরতে পারেন তাঁরা।
আয়োজকেরা জানান, অনুষ্ঠান শেষে অনেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা জানতে চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতের আয়োজনে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এবার সময়ের অভাবে যেসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা ছিল, আগামীতে আরও আগে প্রস্তুতি নিয়ে সেগুলো গুছিয়ে নেওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা গুঞ্জন বলেন, “নিউক্যাসেলের প্রথম শারদীয় দুর্গাপূজা আমাদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান ছিল না। এটি ছিল একটি স্বপ্ন, একটি দায়িত্ব এবং নতুন ইতিহাস গড়ার সংকল্প। এই আয়োজনের প্রতিটি ধাপে জড়িয়ে আছে আমাদের সংগ্রাম, ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা এবং একে অপরের প্রতি অটুট বিশ্বাসের গল্প।”
নিউক্যাসেলের এই আয়োজনের পেছনে ছিল প্রতিমা সংগ্রহের দীর্ঘ যাত্রা, শেষ মুহূর্তে সহযোগিতা খোঁজা এবং বারবার পরিকল্পনা বদলানোর অভিজ্ঞতা। পূজার দিনে সেই ব্যস্ততার জায়গা নেয় ঢাকের শব্দ, অঞ্জলি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। প্রথমবারের এই প্রচেষ্টাকে আগামী দিনে নিয়মিত শারদীয় উৎসবে রূপ দিতে চান উদ্যোক্তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au