অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ অভিযানে অস্ট্রেলিয়া সরকার পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে। ছবি: নিউজওয়ার / মার্টিন অলম্যান
মেলবোর্ন ২৭ ডিসেম্বর: অস্ট্রেলিয়া সরকার নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএস) লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড়দিনের দিনে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে জানান, তিনি নাইজেরিয়ার অস্থির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থানরত “আইএসআইএস সন্ত্রাসী দানবদের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী হামলার” নির্দেশ দিয়েছেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, ওই অঞ্চলে সশস্ত্র জঙ্গিরা দীর্ঘদিন ধরে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর সহিংস হামলা চালিয়ে আসছে। তিনি বলেন, “আমি আগেই এই সন্ত্রাসীদের সতর্ক করেছিলাম, তারা যদি খ্রিস্টানদের হত্যাযজ্ঞ বন্ধ না করে, তাহলে তাদের কঠোর মূল্য দিতে হবে। আজ রাতে সেটাই হয়েছে।”
নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তিতে এই অভিযানে অংশ নেয়, যার ফলে নির্দিষ্ট সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে হামলা চালানো সম্ভব হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, “খ্রিস্টান, মুসলমান বা অন্য যে কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সহিংসতা নাইজেরিয়ার মূল্যবোধ ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিপন্থী।”
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেন, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার যৌথ উদ্যোগ, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বিমান হামলা, অস্ট্রেলিয়া সমর্থন করে। তিনি বলেন, “আইএসআইএস সারা বিশ্বে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করছে। তাদের উগ্র ও সহিংস আদর্শ থামাতেই হবে।”
এই অবস্থান এমন এক সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বন্ডাই বিচে সংঘটিত এক ভয়াবহ হামলার পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চাপে রয়েছেন। ওই হামলায় ১৫ জন নিহত হন এবং পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের গাড়ি থেকে ইসলামিক স্টেট-ধাঁচের পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন দুই হামলাকারী সাজিদ ও নাভিদ আক্রম এই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ।
আলবানিজ বলেন, “গত রবিবারের আইএসআইএস-অনুপ্রাণিত নৃশংস হামলা আমাদের দেশের দ্রুত বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।”
এক সময় ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা ইসলামিক স্টেট ২০১৯ সালে সিরিয়ার বাঘুজে তাদের শেষ শক্ত ঘাঁটি হারানোর পর আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলে আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
নাইজেরিয়ায় তারা বোকো হারামের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে, যারা ২০১৪ সালে আইএসআইএসের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে। একই সঙ্গে চাদ, বুরকিনা ফাসো, মালি ও নাইজারেও সক্রিয় জিহাদি বিদ্রোহ চলমান রয়েছে। মালির রাজধানী বামাকো বর্তমানে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জেএনআইএম গোষ্ঠীর ঘেরাওয়ের মুখে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফ্রিকায় ইসলামিক স্টেটের বিস্তার শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।