চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৭ ডিসেম্বর- গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনটির তথ্যমতে, এই সময়কালে সারা দেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মোট ২ হাজার ৬৭৩টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে ৯০ জন সংখ্যালঘু নাগরিক হত্যাকাণ্ড ও রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। একই সময়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৭৩টি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। চলতি ডিসেম্বর মাসেই এসব ঘটনায় দিপু চন্দ্র দাসসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার(২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার বর্তমান বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিওর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
বৈঠকে বক্তব্য দেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হচ্ছে না। এর পেছনে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় কাজ করছে, যার লক্ষ্য দলবাজি, দখলদারি ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কলুষতার কারণে রাষ্ট্র নিজেই সংখ্যালঘুবিরোধী চর্চার ধারক হয়ে উঠেছে এবং এর ফলে নির্যাতন ও নিপীড়ন অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের প্রস্তাবনায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও নারীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংখ্যালঘু ও জাতিগত নিপীড়নের ঘটনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই বাস্তবতায় ‘ডাইভারসিটি কমিশন’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষায় বৈষম্য নিরোধ আইনের খসড়াকে দ্রুত অধ্যাদেশে পরিণত করার আহ্বান জানান।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বৈঠকে বলেন, ধর্মভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতি দেশের সামাজিক কাঠামোকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের রাজনীতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তাঁর মতে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি শুধু অভ্যন্তরীণ সামাজিক সংহতিই নয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক অবস্থানকেও দুর্বল করে দেয়। শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর পড়তে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন যেভাবে প্রতিবেশী ভারতকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখে, একইভাবে যেন বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দেখা না হয়। ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি যে আচরণ দেখা যাচ্ছে, তা বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জীবনমানেও নানা ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করছে। তবে ভারতে কী ঘটছে, তার দায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনিন্দ্র কুমার নাথ। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার শিকার হচ্ছে। নারী, পুরুষ, কিশোর ও কিশোরীরা হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণ, উপাসনালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ, জোরপূর্বক বাড়িঘর, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, শারীরিক নির্যাতন, কর্মস্থল থেকে জোর করে পদত্যাগ করানো, ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধের শিকার হচ্ছে।
মনিন্দ্র কুমার নাথ বলেন, এসব ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি বড় ভূমিকা রাখছে, যা অপরাধীদের আরও সাহসী করে তুলছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au