হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস । ছবি : রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৭ জুন- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের মধ্যেই আবারও তেল উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ওপেক প্লাস। জোটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, রবিবারের বৈঠকে জুলাই মাস থেকে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হবে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এটি হবে টানা চতুর্থ মাসের মতো উৎপাদন বৃদ্ধির পদক্ষেপ।
ওপেক প্লাস হলো তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক এবং রাশিয়াসহ কয়েকটি মিত্র উৎপাদনকারী দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের বাজারে জোটটির প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য নির্ধারণ এবং উৎপাদন নীতিতে তাদের সিদ্ধান্ত বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বাজারে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে উৎপাদন বাড়ানোর পথেই হাঁটছে ওপেক প্লাস।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে দৈনিক প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে। এর আগে এপ্রিল, মে ও জুন মাসেও উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল জোটটি। এপ্রিল ও মে মাসে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ছয় হাজার ব্যারেল এবং জুনে প্রায় এক লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
ওপেক প্লাসের প্রধান সদস্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান। এই দেশগুলো গত কয়েক মাস ধরে উৎপাদন কোটা বাড়ালেও বাস্তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি।
জোটের অভ্যন্তরেও চাপ বাড়ছে। সম্প্রতি দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের সদস্যপদ শেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা সংগঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে উৎপাদন নীতি ও বাজার নিয়ন্ত্রণে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে জোটটিকে।
ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জোটভুক্ত দেশগুলোর গড় উৎপাদন ছিল দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। অথচ ফেব্রুয়ারিতে এই উৎপাদনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল। উৎপাদন ও সরবরাহের এই ব্যবধান বৈশ্বিক বাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক প্লাসের সম্ভাব্য উৎপাদন বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও বাজারে অস্থিরতা কাটানো কঠিন হতে পারে।
রবিবারের বৈঠকে ওপেক প্লাসের ২১ সদস্য দেশের মধ্যে সাতটি প্রধান উৎপাদক দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। একই দিনে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আপাতত বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম এবং মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বাজার স্থিতিশীল রাখার কৌশল।
সুত্রঃ রয়টার্স