আবারও কমলো জেট ফুয়েলের দাম
মেলবোর্ন, ৭ জুন- দেশে বিমান পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম আবারও কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন ঘোষণায় অভ্যন্তরীণ রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের…
মেলবোর্ন, ৭ জুন- ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে কয়েক বছর ধরে চলা রহস্যজনক জিপিএস সংকেত বিঘ্নের পেছনে রাশিয়ার স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক জড়িত থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, রাশিয়ার কিছু সামরিক স্যাটেলাইট বিশেষ কক্ষপথে অবস্থান করে জিপিএস সংকেতে প্রভাব ফেলছে, যা ইউরোপের প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সাল থেকে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার একাধিক ঘটনার তদন্ত চালিয়ে তারা রাশিয়ার একটি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ককে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের মতে, এসব স্যাটেলাইট রাশিয়ার প্রাথমিক সতর্কীকরণ ব্যবস্থার অংশ এবং বিশেষ ধরনের ইলেকট্রনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে জিপিএস সংকেতের ওপর প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিপিএস শুধু স্মার্টফোনে পথনির্দেশনার জন্য ব্যবহৃত হয় না; বরং বিমান চলাচল, জাহাজ পরিচালনা, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক, আর্থিক লেনদেন এবং জরুরি সেবাসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ খাত এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত হলে তা শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে জিপিএস জ্যামিং ও স্পুফিংয়ের অভিযোগ করে আসছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। তাদের দাবি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ কৌশলের অংশ হিসেবে রাশিয়া স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ বাড়িয়েছে।
সম্প্রতি লিথুয়ানিয়ার যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল থেকে পরিচালিত জিপিএস স্পুফিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ওই অঞ্চলে স্পুফিং অ্যান্টেনার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং এর প্রভাব বাল্টিক অঞ্চল ছাড়িয়ে ইউরোপের আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে।
ফিনল্যান্ডের কোস্টগার্ডও জানিয়েছে, বাল্টিক সাগরে জাহাজ চলাচলের সময় জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় বেড়েছে। এর ফলে কিছু জাহাজ পথ হারিয়েছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
গত বছর ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট Ursula von der Leyen-কে বহনকারী একটি বিমানের জিপিএস ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়েছিল। ওই ঘটনার পেছনেও রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারা।
তবে সব অভিযোগই প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। মস্কোর দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বাস্তব তথ্য ছাড়া এ ধরনের অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বিশ্লেষকদের মতে, স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন প্রযুক্তি এখন আর শুধু বেসামরিক ব্যবস্থার অংশ নয়; এটি আধুনিক যুদ্ধ, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। নতুন এই গবেষণা সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে এসেছে এবং ইউরোপের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au