‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস)। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সর্বশেষ নির্বাচনসংক্রান্ত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংগঠনটির তথ্য, প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের সম্পাদক সজীব চাকমা।
দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিনটি পার্বত্য সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে জেএসএসের ভেতরে আলোচনা চলছিল। দলের একাংশ নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, নির্বাচনকালীন পরিবেশ এবং অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় বিষয়টি নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন। এ অবস্থায় দলীয়ভাবে একটি জরিপ পরিচালনা করে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মতামত নেওয়া হয়। জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ নেতাকর্মী ও সমর্থক নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
জেএসএস নেতাদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আদৌ সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতাও দলটির জন্য সন্তোষজনক নয়। সমতল এলাকার মতো স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নিরাপদ নির্বাচনি পরিবেশ পার্বত্য অঞ্চলে নিশ্চিত করা বরাবরই কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক পক্ষপাত, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, ভোটকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ এবং ভোটারদের অবাধ অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ও আশঙ্কা এখনো বিদ্যমান। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কর্মী ও সমর্থকদের মতামতের প্রতি সম্মান জানিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে অন্য কোনো রাজনৈতিক দল বা নির্দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি জেএসএস। এ বিষয়ে সজীব চাকমা জানান, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চুক্তির বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাঙামাটিতে আয়োজিত এক সমাবেশে জেএসএসের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ওই বক্তব্যের পর পার্বত্য বান্দরবান ৩০০ আসনে দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক কেএস মং মারমা এবং পার্বত্য রাঙামাটি ২৯৯ আসনে ঊষাতন তালুকদার সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে পার্বত্য খাগড়াছড়ি ২৯৮ আসনে জেএসএসের পক্ষ থেকে কেউ প্রার্থিতার ঘোষণা দেননি।
এর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনে জেএসএসের মনোনয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দীপংকর তালুকদারের কাছে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন ঊষাতন তালুকদার। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি একই আসনে দীপংকর তালুকদারকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এদিকে রোববার পর্যন্ত পার্বত্য রাঙামাটি ২৯৯ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তাদের মধ্যে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান এবং বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তার সহধর্মিণী মৈত্রী চাকমা, জামায়াতের অ্যাডভোকেট মোখতার আহাম্মদ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জুঁই চাকমা, জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রিয় চাকমা, খেলাফত মজলিশের আবু বক্কর ছিদ্দিক, জাতীয় পার্টির অশোক তালুকদার, জাকের পার্টির আবদুল হক মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জসিম উদ্দীন, গণঅধিকার পরিষদের আবুল বাশার বাদশা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী বাপ্পী চাকমা ও পহেল চাকমা। এর মধ্যে জুঁই চাকমা ও অশোক তালুকদার ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। অন্য প্রার্থীরা শেষ দিনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au