দেশজুড়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ ও সংখ্যালঘু ঐক্যমোর্চা। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা’ হিসেবে বর্ণনা করে ভারতের উদ্বেগকে নাকচ করেছে বাংলাদেশ সরকার। রবিবার ২৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান জনকূটনীতি বিভাগের মহাপরিচালক মাহবুবুল আলম। বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্তব্যকে বাস্তবতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা প্রকৃত বাস্তবতা তুলে ধরে না। ঢাকা স্পষ্টভাবে জানায়, “বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে বিকৃত করে উপস্থাপন করা হচ্ছে। কোনো ভুল, অতিরঞ্জিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বর্ণনা আমরা প্রত্যাখ্যান করি।”
বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ করে, কিছু বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনাকে পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বিরুদ্ধে ‘ব্যবস্থাগত নির্যাতন’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে, যাতে ভারতের কিছু অংশে বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়া যায়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু মহল ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে ভারতের সাধারণ জনগণকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে উসকে দিচ্ছে, এমনকি বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।”
এই প্রতিক্রিয়া আসে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে “নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতামূলক আচরণকে গুরুতর উদ্বেগের বিষয়” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
তবে বাংলাদেশের অবস্থানের বিপরীতে, হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (HRCBM)–এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৩২টি জেলায় ৭৩টি ভুয়া ধর্ম অবমাননার মামলা দায়ের হয়েছে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন। এসব ঘটনায় মারধর, গণপিটুনি, হত্যা এবং বেআইনি সম্পত্তি দখলের মতো গুরুতর অপরাধ সংঘটিত হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতা মেটানো বা জমি ও সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য, ভুক্তভোগীদের নাম, স্থান ও তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে হিন্দু যুবক দীপু দাসের হত্যাকাণ্ডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
HRCBM সতর্ক করেছে যে ভিত্তিহীন ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এখন সংখ্যালঘুদের হয়রানি, তাদের সম্পত্তি দখল এবং কখনও কখনও হত্যার হাতিয়ার হয়ে উঠছে। সংস্থাটি বলেছে, এই প্রবণতা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গুরুতর ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।