বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন যুদ্ধের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ আরোপের সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। গত বুধবার আন্তর্জাতিক…
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে মালাউইতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য ফুলব্রাইট আফ্রিকান রিসার্চ স্কলার প্রোগ্রাম (এআরএসপি)-এর আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে। এই মর্যাদাপূর্ণ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো আফ্রিকার গবেষক ও শিক্ষাবিদদের গবেষণা, একাডেমিক উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
এআরএসপি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ফুলব্রাইট প্রোগ্রামের অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা।
এই কর্মসূচি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে গবেষকেরা উন্নতমানের গবেষণায় অংশ নিতে পারেন, নতুন একাডেমিক কর্মসূচি তৈরি করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে পারেন। কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা এগিয়ে নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠদান ও পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, আফ্রিকান ও মার্কিন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং জ্ঞান বিনিময় ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন।
এআরএসপি-তে দুই ধরনের অনুদান দেওয়া হয়, যা ভিন্ন ভিন্ন একাডেমিক ও পেশাগত প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত। গবেষণা অনুদান তিন থেকে নয় মাসের জন্য প্রদান করা হয় এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পেশাজীবীদের জন্য নির্ধারিত। আবেদনকারীদের ডক্টরেট বা সমমানের সর্বোচ্চ ডিগ্রি থাকতে হবে। এই অনুদানের আওতায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে গবেষণা পরিচালনা করতে পারবেন। ২০২৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করতে হবে। যেসব আবেদনকারীর অন্তত তিন বছরের শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং যাদের গবেষণা প্রকাশনা শক্তিশালী, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। ডক্টরেট সম্পন্ন করার পরপরই করা পোস্টডক গবেষণা এই অনুদানের আওতায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
অন্যদিকে প্রোগ্রাম ও পাঠ্যক্রম উন্নয়ন অনুদান তিন থেকে পাঁচ মাসের জন্য প্রদান করা হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসকদের জন্য প্রযোজ্য। আবেদনকারীদের কমপক্ষে স্নাতকোত্তর বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। এই অনুদানের মূল লক্ষ্য হলো নতুন কোর্স, পাঠ্যক্রম বা একাডেমিক প্রোগ্রাম তৈরি করা। ২০২৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করা যাবে। যারা নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাদানের মান উন্নয়ন এবং নতুন একাডেমিক বিষয় যুক্ত করতে চান, তাদের জন্য এই অনুদান বিশেষভাবে উপযোগী।
আবেদনকারীদের অবশ্যই মালাউইয়ের নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং নির্দিষ্ট একটি অনুদান বিভাগে আবেদন করতে হবে। তাদের স্পষ্ট একাডেমিক বা পেশাগত লক্ষ্য প্রদর্শন করতে হবে এবং নির্বাচিত অনুদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যেসব আবেদনকারীর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র রয়েছে, তারা অগ্রাধিকার পাবেন। আবেদনকারীদের নিজ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হয়। তবে পূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পুনরায় সংযুক্ত হওয়ার আবেদন নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রোগীর সরাসরি সংস্পর্শে থাকা ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা গবেষণা এই কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত নয়।
এই কর্মসূচির আওতায় ডক্টরাল গবেষণাপত্র, ডিগ্রি সম্পন্নের পরপরই পোস্টডক গবেষণা এবং কাঠামোবিহীন পেশাগত ভ্রমণ সমর্থন করা হয় না। তবে আগের কোনো চক্রে যারা নির্বাচিত হননি, তারা নতুন প্রস্তাবনা ও হালনাগাদ নথিপত্রসহ পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীদের ফুলব্রাইটের নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ আবেদন জমা দিতে হবে। এতে সাধারণত আবেদন ফরম, একাডেমিক জীবনবৃত্তান্ত, গবেষণা বা প্রোগ্রাম প্রস্তাবনা, সুপারিশপত্র এবং আমন্ত্রণপত্র সংযুক্ত করতে হয়। আবেদনপত্রে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষের জন্য আবেদন শুরু হয়েছে ২৭ এপ্রিল ২০২৬ থেকে এবং শেষ সময় ৩১ মে ২০২৬। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা যেন আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেন, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং গবেষণা প্রস্তাবনা প্রস্তুত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের উন্নতমানের গবেষণা সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা ও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবেন এবং গবেষণা ও শিক্ষাদানের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারবেন। কর্মসূচি শেষে তারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফিরে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে অবদান রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কর্মসূচি আফ্রিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈশ্বিক একাডেমিক অংশীদারিত্ব জোরদার, পাঠ্যক্রমে উদ্ভাবন এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক বিনিময় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে সহায়তা করবে।
ফুলব্রাইট আফ্রিকান রিসার্চ স্কলার প্রোগ্রাম মালাউইয়ের শিক্ষাবিদদের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শক্তিশালী একাডেমিক পটভূমি, সুস্পষ্ট গবেষণা লক্ষ্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে অবদান রাখার মানসিকতা রয়েছে—এমন প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।
সূত্রঃ গ্লোবাল সাউথ অপরচুনিটিস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au