চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৩০ ডিসেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে সন্ত্রাসী হামলার সময় জীবন বাজি রেখে বহু মানুষের প্রাণ বাঁচানো আহমেদ আল আহমেদ ঘটনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। হামলার সময় দুই বন্দুকধারীর একজনের পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার হাত থেকে দীর্ঘ নলের বন্দুক কেড়ে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠেন একজন সাহসী মানুষ হিসেবে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আহমেদ বলেন, তিনি তখন নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবেননি। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বন্দুকটি কেড়ে নেওয়া এবং যেন আর কোনো নিরীহ মানুষকে হত্যা করা না হয়। তিনি বলেন, বন্দুকধারীর পিঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বলেন, বন্দুক ফেলো, এসব বন্ধ করো।

হামলার সময় দুই বন্দুকধারীর একজনের পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তার হাত থেকে দীর্ঘ নলের বন্দুক কেড়ে নেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিঃ নাইন নিউজ
আহমেদের ভাষায়, ওই মুহূর্তে তিনি নিজের ভেতরে এক ধরনের শক্তি অনুভব করেছিলেন। মানুষের সামনে মানুষ খুন হতে দেখা, রক্তপাত দেখা কিংবা গুলির শব্দ শোনা তিনি সহ্য করতে পারেন না। তিনি বলেন, তার আত্মাই তাকে এগিয়ে যেতে বলেছিল।
গত ১৪ ডিসেম্বর আর্চার পার্কে ‘চানুকা বাই দ্য সি’ নামের একটি হানুকা উদযাপন অনুষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হওয়া ওই গুলিবর্ষণে ১৫ জন নিহত হন। দুই সন্তানের বাবা ৪৩ বছর বয়সী আহমেদ আল আহমেদের এই সাহসী উদ্যোগে অসংখ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আহমেদ বলেন, তিনি জানেন যে অনেক নিরীহ নারী ও শিশুকে বাঁচাতে পেরেছেন। তবে নিহতদের জন্য তার মন খারাপ থেকেই যায়।
হামলার সময় একাধিক গুলিবিদ্ধ হওয়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে সেন্ট জর্জ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার চলে। দক্ষিণ-পূর্ব সিডনি লোকাল হেলথ ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, রোববার তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তার পরিবার জানায়, কাঁধে চার থেকে পাঁচটি গুলি লেগেছিল।
আহমেদের বাবা-মা বলেন, তিনি যাদের বাঁচাচ্ছিলেন তাদের পরিচয় বা ধর্ম নিয়ে ভাবেননি। রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে দেখে তিনি আর চুপ থাকতে পারেননি।
সিরিয়ার ছোট শহর আল নাইরাব থেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানো আহমেদের সাহসিকতায় তার স্বজন ও নিজ এলাকার মানুষ গর্ব প্রকাশ করেছেন। তার চাচা ওয়াহিদ আল আহমেদ বলেন, আহমেদ অন্যায় সহ্য করতে পারে না এবং সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।
বিশ্বজুড়ে ৪৩ হাজারের বেশি মানুষ তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে গড়ে ওঠা একটি তহবিলে ২৫ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।
হামলার পরদিন নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস হাসপাতালে গিয়ে আহমেদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে বাস্তব জীবনের নায়ক বলে উল্লেখ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজও তাকে দেখতে যান। তিনি বলেন, আহমেদের সাহসিকতা সব অস্ট্রেলিয়ানের জন্য অনুপ্রেরণা।
সূত্রঃ এবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au