আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন,২ জানুয়ারি- বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এলেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হয়নি। এই বিষয়টি ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে ও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও ব্যাখ্যা সামনে এসেছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিরাও এই সফরে অংশ নেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সফররত প্রতিনিধিদের মধ্যে পাকিস্তানের স্পিকার এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হলেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এমন কোনো বৈঠক হয়নি। একইভাবে ভুটান, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হয়নি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাহবুবুল আলম জানিয়েছেন, সফরটি ছিল অত্যন্ত স্বল্প সময়ের। এ কারণে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ সম্ভব না হলেও আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে জয়শঙ্করের বৈঠক হয়েছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, জয়শঙ্করের সফরকে রাজনৈতিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বড় কোনো ইঙ্গিত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল মূলত একটি সৌজন্য ও শোক প্রকাশের সফর। পুরো অনুষ্ঠানেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন এবং নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
তিনি আরও বলেন, জয়শঙ্করের সঙ্গে কোনো একান্ত বৈঠক হয়নি এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মতো পরিবেশও তৈরি হয়নি। অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিরাও একই অনুষ্ঠানে ছিলেন, ফলে সীমিত সময়ের মধ্যে কেবল সৌজন্য বিনিময় হয়েছে।
তবে এই সফর ঘিরে কূটনৈতিক বার্তার প্রশ্নটি এড়িয়ে যাচ্ছেন না বিশ্লেষকেরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন মনে করেন, জয়শঙ্করের উপস্থিতি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো শোকবার্তা দুই দেশের সম্পর্ক মেরামতের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়াকে তিনি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করেন। তাঁর মতে, সময় ও কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা এখানে বড় কারণ হতে পারে।
অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই সফরের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বড় কোনো কূটনৈতিক আলোচনায় যেতে ভারত আগ্রহী নাও হতে পারে। বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতার দিকে নজর রেখেই তারা যোগাযোগের কৌশল নির্ধারণ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হাতে ভারতের শোকবার্তা তুলে দেওয়া এবং সেই বার্তায় তাঁর নেতৃত্বের উল্লেখ। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান সম্পর্কে একটি সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দেয়।
সব মিলিয়ে, জয়শঙ্করের সফরকে কেউ দেখছেন নিছক সৌজন্য ও শোক প্রকাশের অংশ হিসেবে, আবার কেউ দেখছেন ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সমীকরণের প্রস্তুতি হিসেবে। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না হওয়া নিয়ে আলোচনা চললেও, দুই দেশের সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তার স্পষ্ট উত্তর দেবে সময়ই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au