‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে আরও এক হিন্দু ব্যক্তির ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। শরীয়তপুর জেলায় প খোকন দাসকে(৫০) কুপিয়ে, মারধর করে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তবে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে তিনি প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। খোকন চন্দ্র পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতা। বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, খোকন দাস বাড়ি ফেরার পথে মবের হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার তলপেটে আঘাত করে, মাথায় মারধর করে এবং পরে শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে জ্বলতে থাকা অবস্থায় কোনোভাবে তিনি কাছের একটি পুকুরে ঝাঁপ দিলে আগুন নিভে যায় এবং তার জীবন রক্ষা পায়।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খোকন কনেশ্বর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিলই গ্রামের বাসিন্দা এবং পরেশ চন্দ্রের ছেলে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী গুরুতর আহত খোকন দাস এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন।
ওসি জানান, দুর্বৃত্তরা খোকনের তলপেটে ছুরিকাঘাত করে তার কাছে থাকা নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পাশের পানিতে ঝাঁপ দে
খোকন দাসের স্ত্রী জানান, ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় তার স্বামীর ওপর হামলা হয়। তিনি বলেন, কারা এই হামলা করেছে তা তিনি জানেন না। তার দাবি, খোকন দাস একজন সাধারণ মানুষ, কারও কোনো ক্ষতি করেননি। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
হামলার পর খোকন দাসের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর এটি চতুর্থ হামলার ঘটনা বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। এর আগে ২৪ ডিসেম্বর কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছর বয়সী অমৃত মণ্ডল নামের এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনিতে হত্যার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানালেও এটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে মানতে অস্বীকৃতি জানায় এবং দাবি করে, ঘটনাটি চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে সৃষ্টি হওয়া সহিংসতার ফল।
এরও আগে ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় একটি পোশাক কারখানায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাস নামে ২৫ বছর বয়সী এক হিন্দু যুবককে সহকর্মীদের একটি দল পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তার মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে এবং আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হিন্দুদের পাশাপাশি খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরাও হামলার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত সপ্তাহে ভারত সরকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত শত্রুতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি জানায়, তারা প্রতিবেশী দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সেটার কার্যকারীতা নিয়ে দেশের মানুষের মাঝেই সন্দেহ রয়েছে।
এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং উগ্রবাদীদের বিদেশনীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উগ্রবাদীরা নির্ভয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে এবং সরকার তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
এরই মধ্যে ৩১ ডিসেম্বর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় চার ঘণ্টার সফরে এসে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশগ্রহণ করেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে শোকবার্তা পৌঁছে দেন। ইউনূস সরকারের ক্ষমতায় আসার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সফর অনুষ্ঠিত হয়।
সূত্রঃ এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au