ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। ছবিঃ রয়টার্স
মেলবোর্ন, ৪ জানুয়ারি- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি দাবি করেন, মাদুরোকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে এবং এ কারণে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো অতিরিক্ত সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
শনিবার রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর এ তথ্য নিশ্চিত করেন মার্কিন সিনেটর মাইক লি। তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরো বর্তমানে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং সেই কারণেই ভেনেজুয়েলাকে লক্ষ্য করে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এই তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।বিচা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিনেটর মাইক লি বিষয়টি নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্নও তোলেন। তিনি লেখেন, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন ছাড়াই এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের আলোকে কতটা ন্যায্য, সেটি তিনি জানতে আগ্রহী।
এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় রাত ১টা ৫০ মিনিটে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। গভীর রাতে বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে বহু মানুষ ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। সিএনএনের সাংবাদিক ওসমারি হার্নান্দেজ জানান, একটি বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, তার বাসার জানালার কাঁচ পর্যন্ত কেঁপে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাজধানী কারাকাসে বিস্ফোরণের পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে। একই সময়ে আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। শহরের দক্ষিণাঞ্চলে একটি বড় সামরিক ঘাঁটির আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে শহরের আলোকসজ্জার মধ্যে আকাশে ধোঁয়ার দুটি কুণ্ডলী ভেসে উঠছে। অন্য একটি ভিডিওতে আলোর ঝলকানির পরপরই বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, কারাকাসে সংঘটিত বিস্ফোরণের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অবগত ছিলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ভেনেজুয়েলার সামরিক স্থাপনা এবং দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার নির্দেশ দেন।
ভেনেজুয়েলা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানী কারাকাসের বাইরে মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
এই পরিস্থিতিতে মাদুরোকে আটক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বিচারের মুখোমুখি করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে।