আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…
মেলবোর্ন, ৫ জানুয়ারি- দেশে ২০২৫ সালে মোট ২ হাজার ৮০৮ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি দৈনিক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্যমতে, নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে ১ হাজার ২৩৪ জন কন্যা এবং ১ হাজার ৫৭৪ জন নারী। গত বছর নারী ও কন্যাদের ওপর সহিংসতার মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে যৌন সহিংসতার ঘটনায়। ২০২৫ সালে দেশে মোট ৭৮৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৫৪৩ জন কন্যা এবং ২৪৩ জন নারী।
ধর্ষণের ঘটনায় দলবদ্ধ সহিংসতার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। তথ্য অনুযায়ী, ১০৪ জন কন্যা ও ৭৫ জন নারীসহ মোট ১৭৯ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৮ জন কন্যা ও ১৩ জন নারীসহ মোট ৩১ জনকে। ধর্ষণের ঘটনার পর মানসিক বিপর্যয়ে আত্মহত্যা করেছেন পাঁচজন কন্যা ও দুইজন নারী। একই সময়ে ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৪৭ জন কন্যা ও ৪১ জন নারীসহ মোট ১৮৮ জন।
যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ১৬৯ জন, যাদের মধ্যে ১১২ জন কন্যা। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ৫৫ জন নারী ও কন্যা। উত্ত্যক্তের কারণে একজন কন্যা ও তিনজন নারী আত্মহত্যা করেছেন। সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন মোট ১৯ জন, যার মধ্যে ছয়জন কন্যা।
২০২৫ সালে বিভিন্ন কারণে হত্যার শিকার হয়েছেন ৭৩৯ জন নারী ও কন্যা। এর মধ্যে ১০৭ জন কন্যা এবং ৬৩২ জন নারী। হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছেন চার কন্যাসহ মোট ২১ জন। একই বছরে ৬০ জন কন্যাসহ ২৩০ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৯৬ জন নারী ও কন্যা।
অন্যান্য নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে এসিডদগ্ধের ঘটনা, যেখানে নয়জন ভুক্তভোগী রয়েছেন। অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ৩৪ জন। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৫২ জন। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৭ জন। গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৭টি। অপহরণের শিকার হয়েছেন ৭১ জন এবং অপহরণচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ৩৪টি।
এ ছাড়া ২৪ জন কন্যাসহ মোট ৫৫ জন মানব পাচারের শিকার হয়েছেন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৩৮ জন। ফতোয়ার শিকার হয়েছেন একজন। বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে আটটি এবং বাল্যবিয়ের চেষ্টা হয়েছে ১৭টি। জোরপূর্বক বিয়ের শিকার হয়েছেন দুজন। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৮৯ জন নারী ও কন্যা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান দেশের নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয় এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au