রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দু পরিবারের জমি দখল: সংখ্যালঘু পরিবারে আতঙ্ক। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ জানুয়ারি- রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় এক হিন্দু পরিবারের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ঘোষপুর গ্রামে ধনেশ্বর বর্মন নামের এক সংখ্যালঘু কৃষক পরিবারের দাবি, একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালী মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা গায়ের জোরে জমি দখল করেছে। এতে হিন্দু পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী ধনেশ্বর বর্মন জানান, ঘোষপুর গ্রামে অবস্থিত পৈতৃক সূত্রে পাওয়া তাদের প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি দখলের উদ্দেশ্যে গত ৩ জানুয়ারি মাঈদুল ইসলাম প্রায় দেড়শ’ লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। তাদের হাতে লাঠিসোটা ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ধনেশ্বর বর্মনের দাবি, জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকটি রায় তাদের পক্ষেই এসেছে। তবে মাঈদুল ইসলাম আদালতের আদেশ মানছেন না এবং নিজেকে জমির মালিক দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনজন বাইরে থাকেন। বাড়িতে নারী ও বয়স্ক সদস্যরা থাকায় পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে তারা চরম উদ্বিগ্ন। বিষয়টি নিয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। দখলদারেরা বাড়ির চারপাশে ঘোরাঘুরি করছেন, আমাদের গতিবিধির উপর নজর রাখছেন বলেও দাবি করেন ধনেশ্বর বর্মন।
ধনেশ্বর বর্মন জানান, থানাতেও অভিযোগ করে লাভ হয়নি। তারা আমাদের নিরাপত্তা দিতে চায় না। ৯৯৯ এ ফোন দিয়েছিলাম, আমাদের সহযোগীতা না করে আদালতে যাওয়ার কথা বলে। আদালতের নির্দেশনা দখলদারেরা না মানলে আর বাড়ি লুটপাট করলে আমরা সংখ্যালঘুরা কার কাছে যাবো।
ধনেশ্বর বর্মনের স্ত্রী রিনা রানী বলেন, বিয়ের পর থেকে প্রায় ৩২ বছর ধরে তারা ওই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। তাদের অভিযোগ, মাঠপর্চার জাল কাগজ দেখিয়ে মাঈদুল ইসলাম ও তার পরিবার জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছে। প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমি নিয়ে এই বিরোধ। তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি থেকে তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে দুবার জমি দখলের চেষ্টা হয়েছে। জমি ছেড়ে না দিলে এলাকা থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।