‘এখনো সময় আছে’, জুলাইপন্থীদের উদ্দেশে মাহফুজ আলম
মেলবোর্ন, ২০ জুন- জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি মনে…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় রানা প্রতাপ বৈরাগী নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের কপালিয়া বাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগী পেশায় বরফকল ও মৎস্য আড়তের ব্যবসায়ী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি নড়াইল থেকে প্রকাশিত একটি স্থানীয় পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি রানা প্রতাপ বৈরাগীকে তার বরফকল থেকে ডেকে পাশের কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে নিয়ে যান। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে মাথায় গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রজিউল্লাহ খান জানান, নিহতের মাথায় তিনটি গুলি করা হয় এবং গলা কাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নিহতের বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় মি. বৈরাগীকে হত্যার সময় সেদিন ঠিক কি ঘটেছিল জানতে চাইলে স্থানীয়রা জানান, রানা প্রতাপ বৈরাগীর বরফকলের পাশে এই খুনের ঘটনাটি ঘটেছিল।
পুলিশ, পরিবারের সদস্য এবং স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ছয়টায় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বরফ কল থেকে ডেকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী কপালিয়া ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সামনে নিয়ে যান।
ওই গলিতেই মি. বৈরাগীর সাথে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তার মাথায় গুলি করা হয়। পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মি. বৈরাগী মারা যান।
নিহত ব্যক্তির বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী দাবি করেন তার ছেলের সাথে কারো ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ ছিলো না।
কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বুঝতে বা অনুমান করতে পারছেন না তিনি।
তিনি বলেন, ” ব্যবসায়িক কোনো বিরোধ তার সাথে তো দেখি না। এটা ঘটনাটা কী ঘটেছে এটাও বুঝতে পারছি না। হঠাৎ করে এটা হবে, এটা করবে কিছুই আমরা বুঝতে পারিনি।”
বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, ঘটনার দিন বেলা তিনটায় তার ছেলে কপালিয়া বাজারের ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যান।
তিনি বলেন, ” বরফ কলের কারখানার পাশে ঘটনাটা ঘটেছে। তাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে গেছে।”
কে নিহত মি. বৈরাগীকে ডেকে নিয়ে গেছে, তারা কারা বা খুনের সাথে তারা জড়িত সন্দেহ করছেন কি না এমন প্রশ্নে সাবেক এই স্কুল শিক্ষক বলেন, ” মনে হয়তো তাই। এখন….তারা তো চিনতে পারিনিতো তাদের। মানে স্পটেতো আমরা ছিলাম না, পরে সংবাদ পেয়ে আমি এখানে আসি।”
এদিকে, কারা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বা কী কারণ জানতে চাইলে মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মি. খান বলেন, ঘটনাটি তদন্তের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে ‘হুট করে আগাম কথা’ বলতে চাননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তবে, মি. বৈরাগীর মাথায় তিনটি গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান মনিরামপুর থানার ওসি মি. খান।
পোস্টমর্টেম বা ময়না তদন্তের জন্য নিহত ব্যক্তির মরদেহ এখনো যশোরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

তবে পুলিশের তথ্যমতে, নিহত রানা প্রতাপ বৈরাগীর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা ছিল। যশোরের কেশবপুর থানায় তার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা এবং অভয়নগর থানায় হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে। এসব মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট থানাগুলো জানিয়েছে।

মি. বৈরাগীর মাথায় তিনটি গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান মনিরামপুর থানার ওসি মি. খান।
নিহতের পরিবার জানায়, রানা প্রতাপ বৈরাগীর সঙ্গে কারও ব্যবসায়িক বিরোধ ছিল না। তার বাবা তুষার কান্তি বৈরাগী বলেন, কী কারণে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তারা বুঝতে পারছেন না। তিনি দাবি করেন, তার ছেলে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীরাও জানান, রানা প্রতাপ বৈরাগী একসময় চরমপন্থি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। তবে পরবর্তীতে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসে ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ বলছে, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au