রামের প্রতিকৃতি অবমাননা ও নির্মাণাধীন রামমূর্তি ভাঙার হুমকির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে AFERMB।
মেলবোর্ন, ১৯ জুন: বাংলাদেশে ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি ভেঙে ফেলার হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ (AFERMB)।
শুক্রবার (১৯ জুন) অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি দাবি করে, সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত একটি মিছিলে ভগবান রামের প্রতিকৃতি অবমাননা করা হয়েছে এবং উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তি অপসারণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও তারা উল্লেখ করে।
সংগঠনটির মতে, এসব ঘটনা বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর গুরুতর আঘাত। AFERMB বলেছে, ধর্মীয় প্রতীক ও উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে হামলা বা অবমাননা শুধু একটি সম্প্রদায়কেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধকেও দুর্বল করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে AFERMB বাংলাদেশের সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- নির্মাণাধীন রামমূর্তির নির্মাণকাজ বাধাহীনভাবে পুনরায় চালু ও সম্পন্ন করা।
- দেশের হিন্দু মন্দির, ধর্মীয় স্থাপনা এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- রামের প্রতিকৃতি অবমাননা ও মূর্তি ভাঙার হুমকির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা।
- দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
- ধর্ম, বিশ্বাস বা পরিচয় নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হয়রানি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। এসব ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।
AFERMB-এর পরিচালক শর্মিষ্ঠা সাহা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা এবং সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সংগঠনটি তার অবস্থানে অটল রয়েছে। একই সঙ্গে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, সমঅধিকার এবং আইনের সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।