আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ জানুয়ারি- বিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার ব্যয় বহনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং তা নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এই মন্তব্য করেন এবং অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি বাতিলের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন যে যুক্তিতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা বাস্তবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটি হিতে বিপরীত হতে পারে। কারণ, শুধু বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ যদি একটি স্বতন্ত্র ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়া হয়, তাহলে দেশি ও বিদেশি সব পর্যবেক্ষকের ক্ষেত্রেই নীতিগতভাবে সমান আচরণ প্রযোজ্য হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তায় থেকে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা দায়িত্ব পালন করলে তাদের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। কারণ, পর্যবেক্ষকদের দায়িত্বের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও কার্যক্রম মূল্যায়নের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকে। সে ক্ষেত্রে কমিশনের অর্থায়নে পরিচালিত পর্যবেক্ষণ কতটা স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
বিবৃতিতে টিআইবি উল্লেখ করে, ২০০৮ সালের নির্বাচন কিংবা তার আগের নির্বাচনগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ করতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এমন বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আত্মজিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন ছিল বলেও মন্তব্য করা হয়।
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের প্রতিও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচন কমিশন বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে দায়িত্ব পালন করা নৈতিকতা ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের মানদণ্ডে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা পর্যবেক্ষকদের নিজেদেরই বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকরা এ ধরনের আতিথেয়তা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবেন।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য করার নামে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার আগের সরকারের প্রচেষ্টা কতটা ফলপ্রসূ হয়েছিল, সেটি বর্তমান নির্বাচন কমিশনের উপলব্ধি করা উচিত। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনমনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে যে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তাকে বিতর্কিত করার যেকোনো পথ থেকে নির্বাচন কমিশনের সরে আসা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au