মেলবোর্ন, ৮ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের মুক্তির দাবিতে রাজধানী কারাকাসে হাজার হাজার নারী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছেন। বিদেশি আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা।
বিক্ষোভকারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দিতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেন। তাদের দাবি, ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র বেআইনি অভিযান চালিয়ে দেশের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ও ফার্স্ট লেডিকে আটক করেছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্যারোলিনা নামের এক নারী বলেন, “আমরা আমাদের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো, ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস এবং আমাদের প্রথম নারী যোদ্ধার মুক্তির দাবিতে এখানে জড়ো হয়েছি। ১৯৯৪ সালে হুগো চাভেজকে মুক্ত করার পর থেকেই মাদুরো আমাদের পথ দেখিয়ে আসছেন। আমরা তার সঙ্গেই আছি।” তিনি আরও বলেন, “মাদুরো ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
এর আগে গত শনিবার ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। ওই অভিযানে দেশটির একাধিক সামরিক ঘাঁটি ও যোগাযোগ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। অভিযানের সময় প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তাদের নিউইয়র্কের একটি কারাগারে রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, অভিযানে ১৫০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। এতে ভেনেজুয়েলা ও কিউবার নাগরিকসহ অন্তত ৮০ জন নিহত হন।
এই অভিযানের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মেক্সিকো, ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও চিলিসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে ব্রিকস জোটের সদস্য রাশিয়া ও চীনও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সরকার একে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। পরিস্থিতি ঘিরে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।