‘এখনো সময় আছে’, জুলাইপন্থীদের উদ্দেশে মাহফুজ আলম
মেলবোর্ন, ২০ জুন- জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, মধ্যবিত্ত সমাজের ভূমিকা এবং রাষ্ট্র রূপান্তরের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি মনে…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি- ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনেও শীর্ষ নেতৃত্বসহ অধিকাংশ পদে জয় পেয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল। টানা পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এই সাফল্যকে সাম্প্রতিক ক্যাম্পাস রাজনীতির একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়া, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার অভাব এবং ক্ষমতাসীন দলসমর্থিত ছাত্র সংগঠনগুলোর নিয়ন্ত্রণমূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে গেছে।
গত ৬ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা জকসু নির্বাচনে ২১টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ১৬টি পদে জয়ী হয় শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল। বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার ভাবমূর্তি শিবিরের জয়ে ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় ১৪ মাস পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়। প্রতিটি নির্বাচনেই শীর্ষ পদগুলোর বড় অংশ যায় শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের দখলে।
বিশ্লেষকদের মতে, টানা এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্যাম্পাসে কার্যকর ছাত্র সংসদ না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক অনাগ্রহ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে দলীয় ছাত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য, সহিংসতা ও দমনমূলক আচরণ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিচ্ছিন্ন করে তোলে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকায় বড় ছাত্র সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়ে। বিপরীতে ছাত্রশিবির গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, যা তাদের জন্য বড় সুবিধা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি পরিচয় প্রকাশ না করে রাজনীতি করায় ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তেমন গড়ে ওঠেনি। বরং ছাত্রলীগ ও অন্যান্য সংগঠনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো ছিল, সেগুলো শিবিরের ক্ষেত্রে তেমনভাবে সামনে আসেনি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, দমন-পীড়নের সময় অন্য সংগঠনগুলো মাঠে কাজ করতে না পারলেও শিবির ক্যাম্পাসে তাদের উপস্থিতি ধরে রাখতে পেরেছিল। এর পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক ও কৌশলগত সহায়তাও নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।
পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের জয়কে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গেও যুক্ত করছেন অনেকেই। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক ভাবমূর্তি ধরে রাখতে পারা শিবির সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে গেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা এখন আদর্শিক রাজনীতির চেয়ে বাস্তব ও কার্যকর নেতৃত্বকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যে নেতৃত্ব হলে, হলে বা ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারছে, তাদের দিকেই ভোট যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা আরও বলছেন, বিশ্বব্যাপী ডানপন্থী রাজনীতির উত্থানের ধারাবাহিকতায় তরুণদের একটি অংশ ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠছে। পাশাপাশি কল্যাণমূলক ও সেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পারাও শিবিরের সাফল্যের একটি বড় কারণ।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম নিজেও বলেন, সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রবান্ধব ও অরাজনৈতিক সেবামূলক কার্যক্রমে জোর দিয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমের মতো উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, দীর্ঘ রাজনৈতিক শূন্যতা, প্রতিষ্ঠিত ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি অনাস্থা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং সময়োপযোগী কৌশলের সমন্বয়েই পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে শিবির সমর্থিত প্যানেলের ধারাবাহিক জয় সম্ভব হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au