বিশ্ব

ইরানে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

  • 2:50 pm - January 09, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৭৮ বার
২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও থেকে নেওয়া এই স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, তেহরান বাজারে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। ছবি: এএফপি

মেলবোর্ন ৯ জানুয়ারি- তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও চলমান বিক্ষোভের মধ্যেই ইরানে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। অনলাইন নজরদারি সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে কার্যত পূর্ণমাত্রার ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট কার্যকর হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নেটব্লকস জানায়, এই সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বিক্ষোভ দমনে সরকারের গৃহীত ধারাবাহিক ডিজিটাল সেন্সরশিপের অংশ। সংস্থাটির মতে, এমন পরিস্থিতিতে জনগণের যোগাযোগের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তথ্য আদান–প্রদান প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিত্যপণ্যের সংকট এবং স্থানীয় মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী তেহরানসহ একাধিক বড় শহরের বাজার ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এসব বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ, যাদের অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

অস্থির পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে বিক্ষোভ মোকাবিলায় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এর বিপরীতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমন করার নির্দেশ দেন।

একই সুরে প্রধান বিচারপতি গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ অনুযায়ী কাজ করছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা দাঙ্গা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করবে কিংবা তাতে সমর্থন দেবে, তাদের প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিক্ষোভ ঘিরে হতাহতের সংখ্যা যেন আর না বাড়ে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। সোমবার এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই মতপ্রকাশ, সংগঠন ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা করতে হবে।

তার ভাষায়, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা এবং নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ ও সংযমই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার একমাত্র পথ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।

সুত্রঃ এএফপি

এই শাখার আরও খবর

আগে ‘শিবির’, এখন ‘ছাত্রলীগ’: বদলায়নি ট্যাগিংয়ের রাজনীতি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত করে চিহ্নিত করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সমীকরণ বদলালেও এই…

দুই মামলায় চিন্ময়ের জামিন হলেও মুক্তি মিলছে না

সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী দুই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত কারামুক্তি মিলছে না বলে…

দুর্গোৎসবের আবহে সিডনিতে ‘দশেরা এক্সিবিশন’, এক ছাদের নিচে মিলবে দেশীয় ফ্যাশনের বৈচিত্র্য

শতদল তালুকদার, সিডনি: প্রবাসের মাটিতে বাঙালি ও দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতির ঐতিহ্য, নান্দনিকতা এবং উৎসবের আবহকে আরও বর্ণিল করে তুলতে সিডনির গ্রানভিল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে…

অস্ট্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুড নিষিদ্ধের উদ্যোগ

‘রাজনৈতিক ইসলাম’ ও উগ্রবাদ ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ কয়েকটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে অস্ট্রিয়া সরকার। দেশটির সংবিধানের আওতায় এসব সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের…

ইয়েমেনে ভয়াবহ সংঘর্ষ, একদিনেই নিহত ১৪১

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুর থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি…

সন্তানকে সম্পত্তি দানের পরও বাবা-মায়ের অধিকার, সংসদে বিল পাস

সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও দখলে রাখার অধিকার নিশ্চিত করতে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au