‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির আহ্বানে দেশজুড়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নামায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। রাজধানী তেহরানসহ শত শত শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ডজনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে তেহরানের রাস্তায় রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্রের চিত্র দেখা যায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ছেন, আর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করছে। অনেক ভিডিওতে গুলির শব্দ স্পষ্ট শোনা যায়।
নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ঠিক রাত ৮টায় দেশজুড়ে একযোগে স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন,
“আপনি যেখানে আছেন, রাস্তায় হোক বা নিজের ঘর থেকেই, ঠিক এই সময় একসঙ্গে আওয়াজ তুলুন।”
ইন্টারনেট নজরদারি সংস্থা Netblocks জানিয়েছে, ইরানে কার্যত দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। ফোন পরিষেবাও বহু জায়গায় বন্ধ রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনে মার্কিন উপস্থাপক টাকার কার্লসনের সাক্ষাৎকার ফার্সিতে ডাব করে প্রচার করা হচ্ছে।

একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক নারী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভকারীদের হাতে দেখা গেছে সাবেক রাজতান্ত্রিক ইরানের “সিংহ ও সূর্য” পতাকা। বিভিন্ন শহরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছবি পোড়ানো হয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ইরানের শত শত শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী এ পর্যন্ত অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। তবে নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা Iran Human Rights বলছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিশু। সংস্থাটি জানিয়েছে, বুধবার ছিল সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী দিন, সেদিনই ১৩ জন নিহত হন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি মানুষ হত্যা শুরু হয়, যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে।
চরম মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার পতনের প্রতিবাদ থেকেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত। তেহরানের ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড বাজারের দোকানিরা ব্যবসা বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন, যখন ইরানি রিয়ালের মান ডলারের বিপরীতে দ্রুত পড়ে যায়।
ইসরায়েলের সঙ্গে ২০২৫ সালের যুদ্ধের ক্ষতি ও দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পর দেশটি ইতিমধ্যেই গভীর অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে।
বুধবার পশ্চিম তেহরানে এক পুলিশ কর্মকর্তা ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। অন্যদিকে কেরমানশাহ ও কামিয়ারান শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে একাধিক বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।

অর্থনৈতিক সংকট ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে ইরানের শত শত শহরে প্রতিবাদ। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের কুহচেনারে বিক্ষোভকারীরা রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির মূর্তি ভেঙে ফেলেছে। তেহরানের আমির কাবির বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের কারণে চূড়ান্ত পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে “অবৈধ শক্তি” ব্যবহার করছে এবং আহতদের গ্রেপ্তার করতে হাসপাতালেও অভিযান চালানো হচ্ছে।
ইরান এখন এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে রাজপথে জনগণের ক্ষোভ এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সংঘাত দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au