বাংলাদেশে তৈরি জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল কেপ ভার্দে
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করে ইতিহাস গড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। তবে মাঠের…
মেলবোর্ন ১০ জানুয়ারি: দীর্ঘ ২৫ বছরের আলোচনা ও টানাপোড়েনের পর দক্ষিণ আমেরিকার বাণিজ্য জোট মেরকোসুরের সঙ্গে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদন দিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ইইউর সদস্যরাষ্ট্রগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে সম্মতি জানায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে নিয়ে গঠিত মেরকোসুর জোটের মধ্যে শুল্ক ও বাণিজ্য বাধা কমবে। ফলে উভয় অঞ্চলের মধ্যে পণ্য ও বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। ইইউ কর্মকর্তাদের মতে, এটি শুধু একটি বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই সিদ্ধান্তকে বহুপাক্ষিকতার জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, বিশ্ব যখন ক্রমেই সুরক্ষাবাদ ও একতরফা নীতির দিকে ঝুঁকছে, তখন এই চুক্তি মুক্ত বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পক্ষে শক্ত অবস্থান তুলে ধরছে। তার মতে, এটি উভয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারৎসও চুক্তিটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি জার্মানি ও সমগ্র ইউরোপের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ২৫ বছর ধরে আলোচনা চলা খুবই দীর্ঘ সময়। ভবিষ্যতে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও বাণিজ্য অবস্থানের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় কমিশন এবং জার্মানি ও স্পেনের মতো দেশগুলো মনে করছে, ইইউ–মেরকোসুর চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কজনিত ক্ষতির কিছুটা হলেও ভারসাম্য আনতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এটি চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে পারে।
তবে এই চুক্তি ঘিরে আপত্তিও কম নয়। ফ্রান্সসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ এর বিরোধিতা করছে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় কৃষি উৎপাদনকারী দেশ ফ্রান্সের আশঙ্কা, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কম দামে গরুর মাংস, পোলট্রি ও চিনি আমদানি বাড়লে ইউরোপীয় কৃষকরা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন। এই আশঙ্কা থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কৃষক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ফ্রান্স ও বেলজিয়ামে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়েছে, আর পোল্যান্ডে কৃষকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন।
সব বিরোধিতা সত্ত্বেও ইইউ নেতারা বলছেন, প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা রেখে চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা হবে। তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে এই বাণিজ্য চুক্তি ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা উভয় অঞ্চলের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au