চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৪ জানুয়ারি- ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক সরকারি কর্মকর্তা এই তথ্য জানান। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর অভিযান চালানোর পর এই প্রথম এত বড় সংখ্যক মৃত্যুর কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করল তেহরান।
ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য উভয় পক্ষের মৃত্যুর জন্য দায়ী তথাকথিত ‘সন্ত্রাসীরা’। তবে নিহতদের মধ্যে কতজন সাধারণ মানুষ এবং কতজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেননি।
ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট থেকেই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। মূল্যবৃদ্ধি, তীব্র মুদ্রাস্ফীতি এবং রিয়ালের দ্রুত দরপতনে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে দেশটির তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষ। গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের কয়েকটি বাজার এলাকায় ছোট পরিসরের প্রতিবাদ থেকে শুরু হয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তা দেশব্যাপী সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। গত তিন বছরের মধ্যে এটি ইরানি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ সংকট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গত বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ইরানের নির্বাসিত শেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে রেজা পাহলভি সরকারবিরোধী জোরালো আন্দোলনের আহ্বান জানালে বহু শহরে রাস্তায় নামে বিপুল সংখ্যক মানুষ। এরপর থেকেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শত শত মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হতে থাকে।
এর আগেই ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন করে শুরু হওয়া এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা দেশটির জন্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী অবস্থান নিয়েছে। একদিকে অর্থনৈতিক সংকটজনিত কিছু প্রতিবাদকে তারা ‘বৈধ’ বলে স্বীকার করছে, অন্যদিকে বাস্তবে বিক্ষোভ দমনে কঠোর নিরাপত্তা অভিযান চালাচ্ছে।
ইরান সরকার এই অস্থিরতার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে। তেহরানের দাবি, বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা এই আন্দোলনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সহিংসতা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
এর আগে একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছিল, বিক্ষোভে শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপ করায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
গত এক সপ্তাহে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে রাতের বেলা সংঘর্ষের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে গোলাগুলি, গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক সহিংসতার চিত্র দেখা গেছে, যা ইরানের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার নিয়েছে তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au