আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৪ জানুয়ারি: আজ আমরা যে বিশ্ব দেখছি, সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও ধর্মীয় উগ্রতা ভয়াবহভাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। পরিচয়, ধর্ম ও জাতীয়তার নামে ঘৃণা স্বাভাবিক হয়ে উঠছে এবং তা ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান ও প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার, কিংবা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও বাড়িঘর পোড়ানো এই বাস্তবতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এসব ঘটনা বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রে আবারও মানবাধিকার, সহিংসতা ও নৈতিকতার প্রশ্নকে টেনে এনেছে।
এই প্রবণতা দক্ষিণ এশিয়াকেও ছাড়েনি। বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ পুরো অঞ্চলে সংখ্যাগরিষ্ঠবাদী রাজনীতি সমাজ ও রাষ্ট্রকে গভীরভাবে গ্রাস করেছে। বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা এবং একজন হিন্দু সংবাদপত্র সম্পাদকের হত্যাকাণ্ড এই উদ্বেগ আরও তীব্র করেছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের একাংশ জনমত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের ভাষায় কথা বলা শুরু করেছে। এই মনোভাব দ্রুত ক্রীড়াক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়ে, যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আইপিএলে খেলা এক বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিতে বাধ্য করে।
এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাংলাদেশি ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরানোর অনুরোধ জানায় এবং বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের ঘোষণাও আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী ও ঘৃণামূলক ভাষা ব্যবহার শুরু হয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ ক্রমেই বাড়ছে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ভারতের বন্ধু ছিল এবং ভারতও তাকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উগ্রতা ও সাম্প্রদায়িকতার কারণে সম্পর্ক সংকটে পড়ছে। তার চেয়েও উদ্বেগজনক হলো, ভারতের কিছু প্রতিক্রিয়া এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ভারতের উচিত বোঝা, এই ধরনের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইপিএল থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের বাদ দেওয়া বা ক্রীড়াক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে কি সত্যিই বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বাড়বে? বাস্তবে এগুলো উল্টো তাদের ঝুঁকিই বাড়াতে পারে।
ভারত যদি ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘উন্নত ভারত’ হওয়ার স্বপ্ন দেখে, তবে তাকে অন্তত কিছু প্রতিবেশীর সঙ্গে কার্যকর ও স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক যখন এমনিতেই টানাপোড়েনপূর্ণ, তখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট করা আত্মঘাতী হবে। ভারত কি এমন এক ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত, যেখানে তার কোনো ভালো প্রতিবেশী থাকবে না?
এই জায়গাতেই ভারতের সরকারকে সংযত ও কূটনৈতিক হতে হবে। ভারতকে অবশ্যই বাংলাদেশকে হিন্দু সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় চাপ দিতে হবে, কিন্তু সেটা হতে হবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে, ব্ল্যাকমেইল, সাংস্কৃতিক বয়কট বা বর্ণবাদী বক্তব্যের মাধ্যমে নয়। একবার যদি বাংলাদেশে ভারতবিরোধী মনোভাব গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে যায়, তাহলে সেই ভাঙা বিশ্বাস পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে যাবে। একই সঙ্গে তা চীন, পাকিস্তান ও এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ভারতকে কৌশলগতভাবে ঘিরে ধরার সুযোগ করে দেবে।
ভারতের শক্তি আসবে ধৈর্য, কূটনীতি ও সংযম থেকে, সব বন্ধন ছিন্ন করা থেকে নয়। যদি ভারত সত্যিই এই অঞ্চলে প্রভাবশালী ও দায়িত্বশীল শক্তি হতে চায়, তবে তাকে আবেগ নয়, দূরদর্শিতা দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
মতামত | পবন কুমার |
পবন কুমার
সহকারী অধ্যাপক, গ্লোবাল স্টাডিজ
ড. বি আর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি
অনুবাদ: ওটিএন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au