জাপানে আম রপ্তানির পথে আরও এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- বাংলাদেশ থেকে জাপানে আম রপ্তানির সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাপানের একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল নওগাঁর পোরশা উপজেলায় আমের বাগান ও…
মেলবোর্ন, ১৫ জানুয়ারি- ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন কর্মী প্রত্যাহার শুরু করেছে ওয়াশিংটন। পরিস্থিতিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর আগে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের অভ্যন্তরে হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
ইরানের এই হুঁশিয়ারির পরপরই ওয়াশিংটনের কর্মী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসে। কাতারের আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকেও মার্কিন কর্মী সরানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দোহা। এটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ইরানে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হতে পারে। একই ধরনের ইঙ্গিত মিলেছে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও। তাদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও এর সময়সূচি ও পরিসর এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে কূটনীতিকদের মতে, গত বছর ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগের সময়ের মতো বড় ধরনের সেনা সমাবেশের লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। তবু কর্মী প্রত্যাহার ও সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত মধ্যপ্রাচ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতিই এই উত্তেজনার মূল কারণ। গত দুই সপ্তাহে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানে প্রায় দুই হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, এই সংখ্যা ২৬০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এবং সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো এই দমন-পীড়নকে ইরানের সমসাময়িক ইতিহাসের সবচেয়ে সহিংস অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন।
ইরান সরকার অবশ্য এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করছে। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভি অভিযোগ করেছেন, বিদেশি শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানে অস্থিতিশীলতা উসকে দিচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে।
সব মিলিয়ে একদিকে মার্কিন ঘাঁটি থেকে কর্মী প্রত্যাহার, অন্যদিকে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের গুঞ্জন—মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে।
সূত্র: সামা টিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au