লখনৌর কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ জুন- ভারতের উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনৌতে একটি কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৪ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। আগুনের তীব্রতায় বহু শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে, আর প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন শিক্ষার্থী বহুতল ভবনের জানালা দিয়ে নিচে লাফ দিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২২ জুন) উত্তর-পশ্চিম লখনৌর আলীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত একটি তিনতলা বাণিজ্যিক ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ভবনটিতে কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি একটি গেমিং জোন, পোষা প্রাণীর সামগ্রীর দোকান, পেট ক্লিনিক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। অনেকেই ধোঁয়া ও আগুনের তাপ থেকে বাঁচতে জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ব্যক্তি জানালার কাচ ভেঙে বাইরে বের হয়ে ভবনের কার্নিশ ধরে ঝুলে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে কিছুক্ষণ পর তিনি নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। তিনি বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান শুরু করেন। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে বহু শিক্ষার্থীর প্রাণহানি ঘটে।
ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উত্তর প্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তিনি জানান, এ দুর্ঘটনায় ১৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছে। আহতদের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (কেজিএমইউ) ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। নিহতদের বেশিরভাগই শিশু ও কিশোর শিক্ষার্থী। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।”
তিনি আরও জানান, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের উৎস, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য গাফিলতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ভবনের ভেতরে আর কোনো শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি আটকা পড়ে নেই। তবে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় লখনৌজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারে চলছে আহাজারি, আর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে।