বব ব্ল্যাকম্যান, ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সরকারের পদক্ষেপ জানতে পররাষ্ট্র সচিবের কাছে বিবৃতি দাবি। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৬ জানুয়ারি: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের “রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে”, তাদের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে আগুন দেওয়া হচ্ছে—যা একটি “বিপর্যয়কর পরিস্থিতি” তৈরি করেছে।
ব্ল্যাকম্যান আরও সতর্ক করে বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন গুরুতর গণতান্ত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, অথচ দলটি জনমত জরিপে প্রায় ৩০ শতাংশ সমর্থন ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে ইসলামপন্থি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে গণভোটের দাবি তুলেছে—যা দেশের মৌলিক কাঠামোকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্ল্যাকম্যান যা বলেছেন
তিনি বলেন,
“পূর্ববর্তী অধিবেশন শেষে আলোচনায় আমি বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলাম এবং হাউস লিডার যথার্থভাবেই বিষয়টি পররাষ্ট্র সচিবের কাছে উত্থাপন করেছিলেন। বাংলাদেশে হিন্দু পুরুষদের রাস্তায় হত্যা করা হচ্ছে, তাদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে এবং অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও একই ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।”
তিনি আরও যোগ করেন,
“আগামী মাসে তথাকথিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। অথচ আওয়ামী লীগের মতো বড় রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে চরমপন্থীরা এমন গণভোট চাইছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানকে স্থায়ীভাবে বদলে দেবে।”
ব্ল্যাকম্যান ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিবের কাছ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেন—যেখানে ব্যাখ্যা থাকবে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য যুক্তরাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেবে।
https://x.com/BobBlackman/status/2011836858586534159?s=20

বাংলাদেশে হিন্দুদের হত্যা, ঘরবাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগকে ‘বিপর্যয়কর পরিস্থিতি’ বললেন বব ব্ল্যাকম্যান। Photo: https://x.com/BobBlackman
যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের যৌথ উদ্বেগ
গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের চারজন এমপি—বব ব্ল্যাকম্যান, জিম শ্যানন, জাস আথওয়াল এবং ক্রিস ল—এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনুস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ব্যাপক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই পদক্ষেপ জাতিসংঘ, যুক্তরাজ্য এবং বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের মিত্রদের দেওয়া পরামর্শ উপেক্ষা করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, “অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের এমন বিধিনিষেধ আরোপ করা উচিত ছিল না। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন কখনোই গণতান্ত্রিক বলে গণ্য হতে পারে না।”
ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান সহিংসতা ও রাজনৈতিক বঞ্চনার এই ধারা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা গুরুতর হুমকির মুখে পড়বে।