মেলবোর্ন, ১৭ জানুয়ারি- গাজীপুরের কালীগঞ্জে তুচ্ছ একটি বিরোধের জেরে দোকানকর্মীকে মারধরের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন হোটেল মালিক লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫৫)। প্রকাশ্য এই হামলার ঘটনায় একই পরিবারের তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে কালীগঞ্জ পৌরসভা সংলগ্ন এলাকায় ‘বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল’-এর সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিটন চন্দ্র ঘোষ, যিনি স্থানীয়দের কাছে কালি ঘোষ নামে পরিচিত, চান্দাইয়া এলাকার নির্মল চন্দ্র ঘোষের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে ওই হোটেলটি পরিচালনা করছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে মাসুম মিয়া (২৮) নামের এক যুবক হোটেলে খাবার খেতে যান। এ সময় হোটেলের কিশোর কর্মচারী অনন্ত দাসের (১৭) সঙ্গে কোনো এক তুচ্ছ বিষয় নিয়ে তার কথা কাটাকাটি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মাসুমের বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫) ও মা মাজেদা খাতুন (৪৫) ঘটনাস্থলে এসে জড়িয়ে পড়েন।
এই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং নিজের কর্মচারীকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন হোটেল মালিক লিটন চন্দ্র ঘোষ। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে অভিযুক্তরা। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তারা লিটন চন্দ্রকে বেধড়ক মারধর করেন। হামলার সময় বেলচা দিয়ে মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং সেখানেই মারা যান।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তদের ধাওয়া করে আটক করে এবং পুলিশে সোপর্দ করে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, প্রকাশ্য দিবালোকে এমন সহিংসতা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা এবং তার মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। তার আগে ৯ জুলাই ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্য রাস্তায় লালচাঁদ সোহাগকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
কালীগঞ্জের এই হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করল, সামান্য বিরোধ কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে প্রাণঘাতী সহিংসতায় রূপ নিতে পারে।