ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা জানিয়ে আয়োজিত মিছিলে অংশ নিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ১৮ জানুয়ারি- গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে নেমেছেন। সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান জানানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার দাবিতে শনিবার একযোগে এসব কর্মসূচি পালিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনসহ আরহুস, আলবর্গ ও ওডেন্সে এবং গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক শহরে বড় আকারের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।
ডেনমার্কে বসবাসরত গ্রিনল্যান্ডবাসীদের সংগঠন উগাটের চেয়ারম্যান জুলি রাডেমাখার বলেন, বিশ্ববাসীর উদ্দেশে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। তার ভাষায়, এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড ও এর জনগণ অনিচ্ছাকৃতভাবেই গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের লড়াইয়ের সামনের সারিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দেন, ইউরোপের যেসব দেশ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে, তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে, যদি গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে কোনো সমঝোতা না হয়। এই ঘোষণার পরই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবাদের ঢেউ আরও জোরালো হয়।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তন করা সম্ভব হয়নি। তার মতে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আকাঙ্ক্ষা এখন আগের চেয়ে আরও স্পষ্ট। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড-দু’পক্ষই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যাওয়ার ধারণা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের ৮৫ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিপক্ষে। মাত্র ৬ শতাংশ এই প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছেন। এ অবস্থায় ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো মেরু অঞ্চলে সামরিক মহড়া জোরদার করতে সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, যা সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই।
ডেনমার্কের অধীনে স্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংকট মোকাবিলায় কোপেনহেগেন ও নুক কূটনৈতিক ঐক্যের ওপর জোর দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় একসঙ্গে অবস্থান নেওয়াকেই তারা সবচেয়ে কার্যকর পথ হিসেবে দেখছে।
সুত্রঃআল জাজিরা