লেবাননে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসছে যুক্তরাষ্ট্র
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ইরানের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শান্তি আলোচনার প্রথম পর্বে অংশ নিতে সুইজারল্যান্ড সফর করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড…
মেলবোর্ন, ২০ জুন- অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো প্রাণঘাতী এইচ-৫ ধরনের বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। দেশটির ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া উপকূলে পাওয়া দুটি বন্য পাখির শরীরে এ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সব মহাদেশেই ছড়িয়ে পড়ল ভয়ংকর এই এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা বেথ কুকসন জানিয়েছেন, বিশ্বজুড়ে পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে এই ভাইরাসের উপস্থিতি বহুবার দেখা গেলেও সব ক্ষেত্রে তা বন্য প্রাণীর মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে।
তিনি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় একটি বিচ্ছিন্ন এলাকায় অসুস্থ দুটি পাখির মধ্যে ভাইরাসটি নিশ্চিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণকে অসুস্থ বা মৃত প্রাণী সম্পর্কে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
তার মতে, ভবিষ্যতে বন্য পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
শনিবার দেশটির কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিন্স জানান, অতিরিক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে আক্রান্ত পাখিটির শরীরে এইচ-৫ স্ট্রেইনের বার্ড ফ্লু রয়েছে। শুক্রবার প্রাথমিক পরীক্ষায় ভাইরাসটির উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
আক্রান্ত পাখিটি ছিল একটি বাদামি স্কুয়া প্রজাতির সামুদ্রিক পাখি। এটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার এসপেরেন্স শহরের কাছে কেপ লে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল পার্কের একটি দুর্গম সৈকতে পাওয়া যায়। গত রোববার পাখিটিকে উদ্ধার করে আলাদা রাখা হলেও সেদিন রাতেই সেটি মারা যায়।
বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি পাখিকে সংক্রমিত করা এই ভাইরাস এতদিন অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য সংক্রমণ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে আসছিল দেশটি।
গত বছরের অক্টোবরে জৈব নিরাপত্তা, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য খাতে প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার বরাদ্দ দেয় সরকার। এছাড়া আক্রান্ত পাখির খবর প্রকাশের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে আরও ১ কোটি ১২ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পোলট্রি শিল্প এখনো এইচ-৭ ধরনের বার্ড ফ্লুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ওই প্রাদুর্ভাবে দেশজুড়ে ডিমের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল এবং প্রায় এক বছর দোকানের তাকগুলোতে ডিমের সংকট ছিল।
জৈব নিরাপত্তা বিধি অনুসরণ করে ওই সময় ২০ লাখেরও বেশি ডিমপাড়া মুরগি হত্যা করা হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইচ-৫এন১ ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার বিভিন্ন সংস্থাকে নিয়ে নিয়মিত মহড়া পরিচালনা করেছে। জরুরি সেবা, স্বাস্থ্য, টেলিযোগাযোগ, পশু কল্যাণ, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা ও সুপারমার্কেট খাতের শত শত কর্মী এসব মহড়ায় অংশ নিয়েছেন।
জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার উপ-মহাপরিচালক জো বাফোন বলেন, মহড়াগুলো কাল্পনিক হলেও সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি মাথায় রেখেই পরিচালিত হয়েছে। তিনি জানান, বার্ড ফ্লুর আগের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতি নিয়েছে।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা মিশেল রোডান বলেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হচ্ছে দেশের পোলট্রি শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ভাইরাসটি অন্য কোথাও ছড়িয়ে পড়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া।
তিনি জানান, শুধু পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া নয়, পুরো অস্ট্রেলিয়ার উপকূলজুড়ে নজরদারি চালানো হবে। পোলট্রি খামারগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে কৃষকদের খাদ্য ও পানির উৎস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে খামারের পাখিগুলোকে ঘরের ভেতরে রাখার নির্দেশনাও জারি করা হতে পারে, যাতে বন্য পাখির সংস্পর্শে এসে সংক্রমণ না ছড়ায়।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী জ্যাকি জারভিস বলেন, আক্রান্ত পাখিটি বাণিজ্যিক পোলট্রি খামার থেকে অনেক দূরে পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো বন্য পাখির মাধ্যমে ভাইরাসটি খামারে পৌঁছে যাওয়া।
এদিকে পাখি পালনকারীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অ্যালবানি পোলট্রি ক্লাবের সম্পাদক শ্যারন ক্লিফ বলেন, খামারের পাখিগুলো আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা খুবই ভীতিকর। তবে অনেক খামার ইতোমধ্যে কঠোর জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করছে।
তিনি বলেন, পাখি ও ডিম কেনাবেচা এবং প্রজনন কার্যক্রমের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে তা খামারিদের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
অন্যদিকে এসপেরেন্স ওয়াইল্ডলাইফ হাসপাতালের বন্যপ্রাণী সেবাকর্মী লরি-অ্যান শিবিশ জানান, সম্ভাব্য আক্রান্ত পাখি শনাক্ত ও নিরাপদে ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় কর্মীদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে এসপেরেন্সের একটি সৈকতে আরও একটি উত্তরাঞ্চলীয় দৈত্যাকার পেট্রেল পাখিকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পাখিটি দাঁড়াতে পারছিল না এবং প্রচণ্ড ক্লান্ত ছিল। বর্তমানে সেটিকে কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভাইরাসটির বিস্তার ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশেষ করে পোলট্রি শিল্প, বন্যপ্রাণী এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে দেশজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au