লোডশেডিংয়ের প্রকৃত চিত্র আড়াল করছে সরকার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বাংলাদেশে গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশে বিদ্যুতের সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, আর সেই সংকটের বাস্তব চিত্র ও সরকারি হিসাবে বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোড়ন তুলেছে। মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে কানাডা, ভেনেজুয়েলা ও গ্রিনল্যান্ডকে মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। পোস্টটি ঘিরে দ্রুত বিতর্ক শুরু হয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে।
মানচিত্রটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, এর রাজনৈতিক তাৎপর্য অস্বীকার করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই পোস্ট এলো, যখন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন চলছে।
মানচিত্র পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প আরেকটি ছবি শেয়ার করেন। সেখানে তাঁকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা স্থাপন করতে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, “গ্রিনল্যান্ড ইউএস টেরিটরি ইস্ট ২০২৬।” এই বার্তাকে অনেকেই সরাসরি ভূখণ্ড সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
এর আগেও ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব কানাডা প্রত্যাখ্যান করলেও, এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকে। নতুন মানচিত্রে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানোয় সেই পুরনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে।
ভেনেজুয়েলাকে ঘিরেও ট্রাম্পের অবস্থান সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নেওয়ার দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
মাদক চোরাচালানের অভিযোগে মাদুরোর বিচার শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে “নিয়ন্ত্রণে” নেবে এবং সে দেশের বিপুল তেল সম্পদের ওপর মার্কিন কোম্পানিগুলোর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে। সর্বশেষ পোস্টে ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা সেই বক্তব্যকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। তিনি একাধিকবার বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের এই খনিজসমৃদ্ধ আর্কটিক দ্বীপ প্রয়োজন। যদিও গ্রিনল্যান্ডে ইতিমধ্যেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং দ্বীপটির মালিকানা ডেনমার্কের হাতে, যা ন্যাটোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ।
সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে ট্রাম্প দাবি করেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার পর তিনি আর শুধু শান্তির রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডের ওপর অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দ্বীপটির “পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ” চাওয়ার কথা বলেন। এমনকি গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনায় বাধা দিলে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি।
ট্রাম্পের এসব মন্তব্য ও পোস্ট বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলেছে। সোমবার শেয়ারবাজার খোলার সময় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা স্পষ্ট ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, মানচিত্রটি হয়তো প্রতীকী বা রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তবে এর মাধ্যমে ট্রাম্প যে ভবিষ্যৎ মার্কিন নীতির একটি আক্রমণাত্মক ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au