ঐকমত্য কমিশনের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন সারা হোসেন
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈধতা ও গঠনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সারা হোসেন। তাঁর দাবি, এই কমিশন…
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের অনুরোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণাকে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মদী একে ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য, অবরোধ বজায় রাখা মানে কার্যত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, যা ইরান সামরিকভাবে মোকাবিলা করবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৌশল, যার মাধ্যমে আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, ইরান সরকার গুরুতরভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সরাসরি হামলা স্থগিত রাখছে। পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আলোচনার সুযোগ তৈরি করতে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ট্রাম্প জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে, তবে একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় থাকতে বলা হয়েছে।
এই ঘোষণার পাশাপাশি ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। যদিও বাস্তবে ইরান এখনো আঞ্চলিকভাবে সক্রিয় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাব বজায় রেখেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোকে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মুখপাত্র জানান, এই উদ্যোগ কূটনৈতিক সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে এবং সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকেও সমর্থন জানিয়েছে জাতিসংঘ।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে পাকিস্তান তার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠকে একটি বিস্তৃত শান্তি চুক্তির আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য সম্ভাব্য আলোচনায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে ‘অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে তারা বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসা সময়ের অপচয় ছাড়া কিছু নয়। যদিও এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
অন্যদিকে, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় পাল্টা এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সময়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, এতে আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। পাশাপাশি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের পাকিস্তান সফর আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, যদিও পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তা পুনরায় শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্রঃ বিবিসি, আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au