মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ জানুয়ারি- রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে কাঁচা ঘরে বসবাস করা মানুষদের জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করে ফ্ল্যাটে থাকার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কড়াইলের বাসিন্দাদের নামে রেজিস্ট্রি করে ছোট ছোট ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হবে, যাতে তারা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন পেতে পারেন।
মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
কড়াইলের বাসিন্দাদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নানা কষ্টের মধ্যে বসবাস করছেন। এই কষ্ট লাঘব করতে বিএনপি ধাপে ধাপে স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে চায়। তিনি বলেন, এখানে বড় বড় বহুতল ভবন নির্মাণ করে প্রতিটি পরিবারের জন্য আলাদা ফ্ল্যাট করা হবে এবং সেই ফ্ল্যাট সংশ্লিষ্ট পরিবারের নামেই রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে।
কড়াইল বস্তি রাজধানীর সবচেয়ে বড় বস্তি হিসেবে পরিচিত। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে তিনটি সরকারি সংস্থার প্রায় ৯৩ একর জমিতে এই বস্তির গড়ে ওঠে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৪০ হাজারের মতো ঘরে নিম্ন আয়ের মানুষ বসবাস করছেন।
আবাসন সমস্যার পাশাপাশি কড়াইল এলাকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন বিএনপির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বস্তিতে বসবাসকারী শিশুদের লেখাপড়ার সুযোগ সীমিত। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এখানে শিশুদের জন্য সুন্দর ও মানসম্মত স্কুল গড়ে তোলা হবে। একই সঙ্গে খেলাধুলার জন্য মাঠ ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, কড়াইলবাসী যেন চিকিৎসার জন্য দূরে যেতে বাধ্য না হন, সে জন্য এলাকাতেই ক্লিনিক ও হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি কাজ করতে চায় এবং পুরো এলাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চায়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বলেন, ঢাকা-১৭ আসন থেকে তিনি প্রার্থী হয়েছেন এবং কড়াইল বস্তি এই নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত। প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে।
নির্বাচন ও আচরণবিধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ আচরণবিধির আওতায় পড়বে কি না বা কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না, তা তিনি জানেন না। তবে তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান বলে উল্লেখ করেন।